দেবী স্কন্দমাতা হলেন হিন্দু দেবী দুর্গার নব রূপের পঞ্চম অবতার, যিনি মাতৃত্ব, জ্ঞান ও মহাশক্তির এক অপূর্ব সমন্বয়। সনাতন শাস্ত্রের তথ্য অনুযায়ী, ‘স্কন্দ’ শব্দের অর্থ হলো ভগবান শিব ও পার্বতীর পুত্র কার্তিক এবং ‘মাতা’ শব্দের অর্থ মা। অর্থাৎ, তিনি হলেন স্কন্দের মাতা। দেবী স্কন্দ মাতার চারটি হাত ও তিনটি চোখ রয়েছে। তিনি তার একটি ডান হাতে তাঁর পুত্র শিশু স্কন্দকে বা কার্তিকেয়কে কোলে ধারণ করে রেখেছেন। তাঁর অপর দুই হাতে পদ্মফুল এবং অন্য হাতটি বরদাতা বা অভয়মুদ্রায় থাকে। একটি বাম হাতে যুদ্ধের অস্ত্র বা শক্তি থাকতে পারে। তিনি একটি হিংস্র সিংহের উপর উপবিষ্ট থাকেন। তাঁর সৃষ্টি রহস্য় নিয়ে বিরাট পৌরাণিক ব্যাখ্যা রয়েছে,সেই ব্যাখ্য়ায় না গিয়ে বরং স্কন্দ মাতার পূজা কেন করব? এই দেবীর আরাধনা করলে আমরা কিভাবে লাভবান হব? আজ জানাব সেই তথ্য়।
আধ্যাত্মিক দৃষ্টিতে দেবী পার্বতী হলেন আদিম সৃষ্টিশীল শক্তি। স্কন্দমাতা হলেন সেই পরমা প্রকৃতি যিনি মানুষের নিষ্ক্রিয় জ্ঞানকে বাস্তব জগতের কর্মমুখী শক্তিতে রূপান্তর করেন। ভক্তদের কাছে দেবী স্কন্দমাতার পূজা অত্যন্ত ফলদায়ী। নবরাত্রির পঞ্চম দিনে এই দেবীর পূজা করা হয়ে থাকে, যা ভক্তের মনের বিশুদ্ধ চক্রকে জাগ্রত করতে এবং সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি আনতে সাহায্য করে।
যোগ ও তন্ত্র সাধনা অনুযায়ী, বিশুদ্ধ চক্র হলো মানব শরীরের সূক্ষ্ম তন্ত্রের সাতটি প্রধান চক্রের মধ্যে পঞ্চম চক্র, যা গলা বা কণ্ঠ অঞ্চলে অবস্থিত। বিশুদ্ধ চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করে বুধ গ্রহ এবং বাড়ির উত্তর দিক। পড়াশোনা, গান, বাজনা, লেখালেখি, সাংবাদিকতা, অভিনয়, নৃত্য এক কথায় সৃষ্টিশীলতা প্রকাশের অন্যতম কেন্দ্র হল বিশুদ্ধ চক্র। বিশুদ্ধ চক্র গলা, থাইরয়েড গ্রন্থি, স্বরযন্ত্র এবং ঘাড়ের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। জন্ম ছকে বুধ গ্রহ নেতিবাচক হলে বা বাড়ির উত্তর দিকে বাস্তু দোষ তৈরি হলে বিশুদ্ধ চক্র অবরুদ্ধ হয়। বিশুদ্ধ চক্র অবরুদ্ধ হলে ব্যক্তি নিজেকে প্রকাশ করতে পারে না, কথা শোনার ধৈর্য্য থাকে না, পরনিন্দা-পরচর্চা করতে পছন্দ করে, ভুল বোঝে, চিৎকার করে, অপশব্দ প্রয়োগ করে। নিজের মতামত বা সত্য প্রকাশে ভয় বা জড়তা তৈরি হয়। গলার সমস্যা, থাইরয়েডের গন্ডগোল বা স্পষ্ট কথা বলতে সমস্যা হওয়া। আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা দেওয়া ইত্যাদি।
নবরাত্রির পঞ্চম দিনে দেবী স্কন্দ মাতার আরাধনা বা পূজা করলে বিশুদ্ধ চক্র জাগ্রত হয়,আত্মবিশ্বাস বাড়ে, কর্মে সাফল্য় আসে।