২০২৬ সালের ১৪ই সেপ্টেম্বর অর্থাৎ ভাদ্র মাসের শুক্লা পক্ষের চতুর্থীতে সিদ্ধিদাতা গণেশজির পূজা। সিদ্ধিদাতার কৃপা লাভ করতে এবং জীবনে সুখ, সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্য ফিরিয়ে আনতে শাস্ত্রে কিছু নিয়মের কথা বলা হয়েছে। শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুযায়ী বেশ কিছু কাজ করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। সনাতন ধর্মে বিশ্বাস করা হয় যে, এই বিশেষ দিনে বিঘ্ননাশী গণপতির আরাধনা করলে জীবনের সব বাধা-বিপত্তি দূর হয় এবং আর্থিক উন্নতি ঘটে। কেন না এই তিথিতে সুখ-সমৃদ্ধির দেবতা সিদ্ধিদাতা গণেশের জন্ম হয়। এই শুভ তিথিতে বিশেষ কিছু উপায় আপনার ভাগ্যকে উজ্জ্বল করতে পারে। এই উপাচার করলে গণপতি বাপ্পার আশীর্বাদ আপনার উপর বর্তাবে। সেই সঙ্গে ভক্তদের সব মনোবাঞ্ছাও পূরণ হবে। জেনে নিন গণেশ চতুর্থীতে আপনার কী কী উপায় অবলম্বন করা দরকার।
১) জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী, এই শুভ দিনে বাড়ির ঠাকুরঘরে একটি 'গণেশ যন্ত্র' স্থাপন করতে পারেন। মনে করা হয়, এর ফলে বাড়িতে নেতিবাচক শক্তির বিনাশ ঘটে।
২) গণেশ চতুর্থীর দিন, আপনার ভগবান গণেশকে অভিষেক করা উচিত। গণপতি বাপ্পার অভিষেক করলে জীবনে সুখ পাওয়া যায়। অভিষেকের পর অবশ্যই অথর্ব শীর্ষ অর্থাৎ গণপতি উপনিষদ পাঠ করুন।
৩) সংসারে সমৃদ্ধি দ্বিগুণ করতে গণেশ চতুর্থীর দিন বাড়িতে নতুন শঙ্খ, নারকেল অথবা ধন দেবতা কুবেরের মূর্তি কিনে আনা শুভ বলে মনে করা হয়।
৪) চাকরিতে আর্থিক উন্নতি করতে হলে গণেশ চতুর্থীর দিন ভগবান গণেশকে গুড় ও খাঁটি ঘি দিয়ে তৈরি প্রসাদ নিবেদন করুন, পূজা শেষে তা গরুকে খাওয়ান।
৫) গণেশ চতুর্থীর দিন মন্দিরে গিয়ে গুড়ের ২১ টি গোল্লা এবং গণপতি বাপ্পার পূজায় ২১টি সবুজ দূর্বা ঘাস অর্পণ করা অত্যন্ত আবশ্যিক। এটি প্রাচুর্য ও উর্বরতার প্রতীক যা জীবনে আর্থিক সমৃদ্ধি নিয়ে আসে।
৬) যদি কেউ বিবাহ সংক্রান্ত সমস্যায় ভোগেন, তাহলে গণেশ চতুর্থীর দিন, আপনি উপবাস করুন এবং গণপতি বাপ্পাকে মালপোয়া নিবেদন করুন। এর মাধ্যমে শীঘ্রই বিবাহ জনিত সমস্যার সমাধান সূত্র তৈরি হবে।
৭) গণেশ চতুর্থীর দিন, ভগবান গণেশের সবচেয়ে প্রিয় মিষ্টি হলো মোদক ও লাড্ডু তাই গণেশকে হলুদ রঙের মিষ্টি নিবেদন করুন। পূজার সময় তাঁকে এই মিষ্টিগুলি ভোগ হিসেবে নিবেদন করলে ঘরে সুখ-শান্তি বজায় থাকবে।
৮) জীবনে সুখ,শান্তি, সৌভাগ্য় ও আর্থিক স্থায়িত্বের জন্য পূজার সময় গণপতির চরণে একটি সুপারি অর্পণ করুন এবং পরে সেটি একটি কাপড়ে জড়িয়ে আপনার টাকা রাখার আলমারী বা লকারে রেখে দিন।
৯) গণপতি বাপ্পাকে পূজার দিন লাল রঙের ফুল যেমন লাল গোলাপ বা জবা এবং লাল বস্ত্র অর্পণ করুন। এ দিন সাদা ফুল বা সাদা বস্ত্র নিবেদন করা এড়িয়ে চলাই ভালো।
এ ছাড়া শাস্ত্রে গণেশজির মন্ত্রকে অত্যন্ত অলৌকিক বলে মনে করা হয়েছে। গণেশ চতুর্থীর দিন সকালে ও সন্ধ্যায় গণেশজির মন্ত্র জপ করলে ঘরে কোনো অশুভ শক্তি প্রবেশ করতে পারবে না।
মন্ত্রটি হল - "ওম একদন্তায় বিদমহে, বক্রতুন্ডায় ধীমহি, তন্নো দন্তি প্রচোদয়াত্।" এই মন্ত্রটি জপ করা, যা ভগবান গণেশের বীজ মন্ত্র হিসাবে বিবেচিত হয়, বলা হয় যে এই মন্ত্র পাঠ করলে স্বর্গীয় অনুগ্রহ ও আশীর্বাদ লাভ হয়।