জন্মাষ্টমি হলো ভারতীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি প্রধান ধর্মীয় উৎসব, যা ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথি বা আবির্ভাব দিবস হিসেবে পালন করা হয়। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, দাপরযুগে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণ পক্ষের অষ্টমী তিথিতে রোহিণী নক্ষত্রযোগে শ্রী কৃষ্ণ মথুরায় কংসের কারাগারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের মাধ্যমে পৃথিবীতে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করার জন্য বিষ্ণুর অবতার রূপে শ্রী কৃষ্ণ এই ধরাধামে অবতীর্ণ হয়েছিলেন।
হিন্দু শাস্ত্র ও বৈষ্ণব ধর্ম মতে, জন্মাষ্টমির এই শুভ দিন কিছু বিশেষ উপাচার ও নিয়ম মেনে পূজা অর্চনা করলে আর্থিক উন্নতি ও সুখ-সমৃদ্ধি লাভ করতে পারবেন।
১) জন্মাষ্টমির দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে পরিষ্কার বা নতুন পোশাক পরুন এবং ঘর বাড়ি ও পূজা স্থান পরিষ্কার রাখুন।
২) জন্মাষ্টমির আগে মধ্য রাতে শ্রী কৃষ্ণের জন্ম লগ্নে বা নির্দিষ্ট সময়ে গঙ্গা জল, পঞ্চামৃত (কাঁচা দুধ,চিনি,দই,মধু ও ঘি) দিয়ে গোপাল বা কৃষ্ণমূর্তির অভিষেক করুন এবং নতুন পোশাকে সাজিয়ে দোলনায় বসান। এতে শ্রী বিষ্ণু ও মা লক্ষ্মীর কৃপা পাওয়া যায়। কেন না শ্রী কৃষ্ণ হলেন বিষ্ণুর অবতার।
৩) জন্মাষ্টমির পূজায় শ্রী কৃষ্ণকে মাখনের সঙ্গে তুলসী পাতা নিবেদন করুন। ভগবান বিষ্ণু ও কৃষ্ণের প্রিয় তুলসী পাতা ছাড়া পুজো অসম্পূর্ণ বলে মনে করা হয়। তুলসী হলেন গণেশের স্ত্রী,তাই শ্রী গণেশ খুশী হলে ব্যবসায় উন্নতি সম্ভব।
৪) শ্রী কৃষ্ণের শঙ্খের নাম ছিল 'পাঞ্চজন্য' জন্মাষ্টমির রাতে দক্ষিণাবর্ত শঙ্খ বাজিয়ে শ্রী কৃষ্ণের অভিষেক করলে শত্রু নাশ হয়, আর্থিক সংকট দূর হয় এবং ঘরে ধন সম্পদ বৃদ্ধি পায়।
৫) কৃষ্ণের পুজোয় লাল,হলুদ বা সোনালী রঙের বস্ত্র এবং সাধ্যমতো রূপো বা সোনার অলঙ্কার ও সুগন্ধি প্রসাধন সামগ্রী অর্পণ করুন। এতে মঙ্গল,বৃহস্পতি,চন্দ্র,রবি,ও শুক্র গ্রহের কৃপা লাভ করবেন।
৬) জন্মাষ্টমির দিন গরুকে খাবার দেওয়া বা গো-সেবা করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। কেন না গোপাল গরুকে ভীষণ ভালবাসতেন। গরিব ও অভাবী মানুষদের অন্ন, বস্ত্র বা ফল দান করুন। এতে শনি গ্রহ তুষ্ট হয় এবং কর্মের বাধা কেটে গিয়ে আয় বৃদ্ধি পায়।
৭) সারাদিন বা মধ্য রাত পর্যন্ত নিরামিষ ও শস্য হীন উপবাস পালন করুন। দিনভর হরে কৃষ্ণ মহা মন্ত্র জপ করুন, গীতা পাঠ করুন এবং ভজন-কীর্তনে অংশ নিয়ে মনকে শুদ্ধ ও পবিত্র করুন।