বর্তমানে জনপ্রিয় একটি পোশাক হল আনারকলি। আনারকলি নামটা শুনলে প্রথমেই মনে পরে মুঘল আমলের কথা। সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত এই পোশাকের জনপ্রিয়তা সমানভাবে অব্যহত আছে। বিভিন্ন সেলেব্রিটি থেকে সাধারণ মানুষ, বিয়েবাড়ি থেকে পার্টি বা যেকোনো অনুষ্ঠানে, সকলেরই প্রথম পছন্দ এই আনারকলি পোশাক। চলুন আজকে এই পোশাকের কিছু অজানা তথ্যে নজর রাখি...
ষোড়শ শতাব্দীতে মুঘল রাজত্ব পরিচালানার জন্য মসনদে বসেন আকবর। সেই সময়ে, রাজাবাড়িতে নাচ-গানের আসর বসত। সেই আসরে একজন নর্তকী ছিলেন আনারকলি। তিনি নৃত্য পরিবেশনের সময়, এমন একটি পোশাক পরেছিলনে, যেটি বৃত্তাকার দেখতে, সাথে একটি দোপাট্টা এবং একটি সুট থাকে। দেখে মনে হয় যে একটা গোলাকার ফুল বিশেষ। এই হল পোশাকটির বৈশিষ্ট্য। তৎকালীন সময়ে নাচের সময় এই ধরনের পোশাক পড়তেন নর্তকীরা। আনারকলির রূপ এবং নৃত্য দেখে প্রেমে পড়েছিলেন যুবরাজ সেলিম অর্থাৎ জাহাঙ্গীর কিন্তু আকবর সেই সম্পর্ক মেনে না নিলে আলাদা হয়ে যায় দুজন। কিন্তু আনারকলির নাম ইতিহাসের পাতায়, ঐতিহাসিক চরিত্র হিসেবে থেকে যায়। আর সেই নাম থেকেই এই পোশাকের নাম হয় আনারকলি। আনারকলি নামের অর্থ ডালিম ফুল, আর পোশাকের ধরণও সেই রকমই দেখতে।
সমসাময়িক যুগে, বলিউড ডিভারা এই স্যুটগুলিকে এত জনপ্রিয় করে তুলেছে, যে তাঁরা সবার প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে। লম্বা আনারকলি কুর্তা একটি এভারগ্রিন পোশাক। আজ প্রতিটি মহিলার আলমারিতে দেখতে পাওয়া যায় এই পোশাক। কিন্তু আপনি জানেন কিভাবে এত জনপ্রিয় হয়ে উঠল এই পোশাক?
আনারকলি ও সেলিমের প্রেম কাহিনি নিয়ে বলিউডে তৈরি হয়েছিল কালজয়ী সিনেমা ‘মুঘল-ই- আজম’। এই সিনেমায় আনারকলি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মধুবালা, যিনি সিনেমায় আনারকলি পোশাক পড়েন। কিন্তু মুঘল-ই-আজমের পরে অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, প্রথমত ১৯৫৫ সালে, বৈজয়ন্তীমালা দেবদাসে হাজির হন, যখন ১৯৫৮ সালে, ‘কালা পানি’তে নলিনী জয়বন্ত আনারকলিকে ভারতীয় মহিলার জাতিগত পোশাকের একটি অংশ হিসাবে দেখান । ‘পাকিজা’-তে আনারকলি আরও উন্নত হয়ে উঠেছে এবং ‘উমরাও জান’-এ এই সাদা পোশাকে রেখাকে দেখা গিয়েছিল। ‘দেবদাস’-এ মাধুরীকেও এই পোশাকে দেখার পর এই পোশাকের জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যায়।
মুঘল যুগ থেকে আজ পর্যন্ত এই পোশাকের রমরমা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই পোশাকের সূক্ষ্ম ভাঁজ ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং রোম্যান্সের সুতোকে একত্রিত করে। এর স্থায়ী উত্তরাধিকার মুঘল যুগের কারুশিল্প, শৈল্পিকতা এবং সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধির অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে, প্রজন্ম এবং সংস্কৃতি উভয়ই বহন করে নিয়ে যাচ্ছে আনারকলি পোশাক।