মধ্যপ্রদেশের জনপ্রিয় একটি শাড়ি হল চান্দেরী সিল্ক। মনে করা হয়, শ্রীকৃষ্ণের আত্মীয় নাকি প্রথম বানিয়ে ছিলেন চান্দেরী সিল্ক। এমনটাও শোনা যায়, মুঘদের যে কোনো অনুষ্ঠানে সকলের পছন্দের পোশাক ছিল চান্দেরী সিল্ক। জানেন কি কিভাবে তৈরি হল এই শাড়ি? চলুন এই শাড়ির ইতিহাস সম্বন্ধে জানা যাক...
ভারতের মধ্যপ্রদেশে চান্দেরী নামক স্থানে এই শাড়ির উৎপত্তি। পুরাণে চান্দেরী শাড়ির উল্লেখ পাওয়া যায়। কথিত আছে, পুরান অথবা বৈদিক যুগ অনুসারে, মনে করা হয় শ্রীকৃষ্ণের আত্মীয় শিশুপাল চান্দেরী শাড়ি বানিয়েছিলেন। বিখ্যাত চান্দেরী শিল্পটি দ্বিতীয় থেকে সপ্তম শতাব্দীর মধ্যে শুরু হয়। চান্দেরী শাড়ি, মধ্যপ্রদেশের দুটি সাংস্কৃতিক অঞ্চলের সীমারেখার উপর গড়ে উঠেছিল। একটি হল মল্য এবং অপরটি বুন্দেলখন্ড। বিন্ধ্যাচল সীমারেখায় বসবাসকারীদের মধ্যে অনেক রকমের ঐতিহ্য দেখা যায়, তার মধ্যে চান্দেরী শিল্পটি ছিল অন্যতম। অল্প সময়ের মধ্যেই চান্দেরী চাহিদা বাড়তে থাকল এবং সকলের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। ১১ শতাব্দীতে মল্য, মেডোয়া, মধ্য ভারত এবং দক্ষিণ গুজরাতের মতো বাণিজ্য কেন্দ্রগুলিতে এই শিল্পের গুরুত্ব আরও বাড়তে থাকল, এবং চান্দেরীর শিল্পকেন্দ্র গড়ে উঠল। চান্দেরী নামক স্থানে উৎপত্তি, তাই শাড়ির নাম চান্দেরী সিল্ক। কিভাবে বানানো হত এই শাড়ি? চলুন জেনে নিই...
চান্দেরী শাড়ি গুলি সেই সময়ে মূলত তিন ধরনের কাপড় দিয়ে তৈরি করা হত। সেগুলি হল পিওর সিল্ক, চান্দেরী সিল্ক ও সুতী। বিভিন্ন চান্দেরী গুলির মধ্যে সনাতন মুদ্রা, ফুলের নকশা, ময়ূর ও জ্যামিতিক নকশা বোনা হত। শুরুতে তন্তুবায় গুলি মূলত মুসলমান সম্প্রদায়ের ছিলেন, পরে ১৩৫০ সালে কোষ্টি তন্তুবায়গুলি ঝাঁসী থেকে চান্দেরী চলে আসেন এবং সেখানেই বসবাস শুরু করেন। মুঘল আমল থেকে চান্দেরী কাপড়ের ব্যবসা খুবই জনপ্রিয় ওঠে। এই শাড়ির বিষেত্ব কী? জেনে নিন...
চান্দেরী শাড়িতে মূলত চকচকে ভাব দেখা যায়, তবে এই শাড়ির বিশেষত্ব হল শাড়ির রঙ, যা সহজেই মানুষকে আকৃষ্ট করবে। তার মধ্যে সনাতন মুদ্রা, ফুলের নকশা, ময়ূর ও জ্যামিতিক নকশা, সকলেরই মন কাড়ে এই শাড়ি। এই শাড়ির মধ্য সোনা রূপার জরিও ব্যবহার করা হয়। যেটা এই শাড়ির মূল আকর্ষণ। চান্দেরী সিল্কের জনপ্রিয়তা ভারত ছাড়িয়ে, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। মুঘল থেকে আজ পর্যন্ত এই শাড়ির রাজকীয়তা সমান ভাবে বজায় আছে।