Calcutta Television Network

ঐতিহ্য ও ফ্যাশনের আরেক নাম মেখলা চাদর

ঐতিহ্য ও ফ্যাশনের আরেক নাম মেখলা চাদর

14 May 2024 , 02:02:15

আসামের মেখলা চাদরের নাম তো সবাই জানে! কিন্তু, এটি আসলে চাদর নাকি শাড়ি, তা বোঝা দায়! আসামের জনপ্রিয় এই পোশাকের নাম মেখলা ছাড়া আরও একটি নাম আছে, সেটা কি জানেন? আসামে কিভাবে উৎপত্তি হল এই পোশাকের?  চলুন জেনে নিন...

মেখলা চাদর, আসামের স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক। অসমীয়া ভাষায় একে বলা হয় মেখেলা। এই পোশাকটি আসামের মহিলারা পরিধান করে থাকেন। আসামে বরাবরই রেশম উৎপাদন খুব বেশি পরিমাণে হয়। তাই, এই রেশম থেকে, শাড়ি, কাপড়, বিভিন্ন ধরণের পোশাকও উৎপাদনও ভালো হয়। আসামের ব্রহ্মপুত্র নদীর উপত্যকার আদিবাসীরা, রেশম দিয়ে কাপড় বুনতেশুরু করে, এরপর বিভিন্ন কাপড় বুনতে বুনতে তৈরি করল, মেখলা চাদর। অল্প সময়েরই মধ্যেই এই পোশাকের জনপ্রিয়তা বেড়ে যায়।

এই পোশাকের বিশেষত্ব হল, পোশাকের দুটি অংশ থাকে। দুটি অংশ শরীরের চারপাশ ঘিরে পরিধান করা হয়।  একটি নিচের অংশ, যেটি কোমর থেকে নীচের দিকে আবৃত থাকে, একে মেখলা বলা হয়। এটি একটি প্রশস্ত চোঙাকার বস্ত্র খন্ড, যেটি কোমরের চারপাশে মানানসই করার জন্যই এক বা দুটি কুঁচি করা হয় এবং কুঁচিগুলি ডানদিকে দেওয়া হয়। সাধারন শাড়ির থেকে মেখলার কম কুঁচি হয়, এবং সাধারণ শাড়ির কুঁচিও বাম দিকে করা হয়। দুটি খন্ডের মধ্যে পোশাকের উপরের অংশটিকে বলা হয় চাদর। এটি একটি লম্বা বস্ত্র, যার এক প্রান্ত কোমর পর্যন্ত পরা হয় এবং বাকি অংশটা পিঠের চারপাশে আবৃত থাকে। মেখেলা চাদরের সাথে ব্লাউজ পরা হয়। ঐতিহ্যগতভাবে, অতীতে, অন্য আর একটি পোশাক, যার নাম রিহা চাদর হিসাবে বা চাদরের নীচে একটি অভ্যন্তরীণ বস্ত্র খণ্ড হিসাবে পরা হত। রিহা এখনও অসমীয়া বিবাহের পাত্রীর পোশাকের অংশ হিসাবে পরিধান করা হয় এবং কখনও কখনও লোকেদের আদিবাসী ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান যেমন বিহু এবং অন্যান্য অসমীয়া উৎসবে পরিধান করতে দেখা যায়।

মেখলা-চাদরের আলংকারিক নকশা ঐতিহ্যগতভাবে বোনা হয়, কখনো ছাপা হয় না। কখনও কখনও একটি  নকশা বোনা হয়, যাকে বলা হয় ‘পাড়ি’। একটি চাদরের পাশ বরাবর বা মেখলার নিচে সেলাই করা হয়। নকশাগুলির মধ্যে রয়েছে প্রাণী, পাখি, মানুষের রূপ, ফুল, হীরা এবং মহাকাশীয় ঘটনাগুলির মোটিফ। এই দেশীয় নিদর্শনগুলি উপজাতীয় তাঁতিরা বোনে। মোটিফগুলি ‘ফুল’ নামে পরিচিত। সূক্ষ্ম কারুকার্যের উজ্জ্বল আভাযুক্ত হীরার মোটিফ আসামের বস্ত্রের একটি সাধারণ এবং ঐতিহ্যবাহী বৈশিষ্ট্য। পাট এবং মুগা রেশমে, ফুল ও লতা-পাতার সূক্ষ্ম নকশা দেখা যায়। জ্যামিতিক আকারের গাঢ় মোটিফগুলি সাধারণত ইরি এবং সুতীর কাপড়ে দেখতে পাওয়া যায়।

গুয়াহাটি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে সুয়ালকুচি হল আসামের  রেশম শিল্পের কেন্দ্র।  দক্ষ তাঁতিরা শিল্পে এমন খ্যাতি তৈরি করেছে, যে অঞ্চলটি যথার্থই ‘ভারতের রেশম স্বর্গ’ বলা যেতে পারে। আসামে মেখলা চাদর ছাড়াও মুগা সিল্ক ও অন্যান্য সিল্ক উৎপাদন হয়, যা সারা দেশে জনপ্রিয়। মেখলা চাদর তার মধ্য অন্যতম।

0 0 0

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে সমর্থন করেন?

Note:"আপনার তথ্যের গোপনীয়তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি বিশ্লেষণধর্মী কথোপকথন এবং এখানে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ বা প্রকাশ করা হবে না"
×
  • CTVN