সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পড়াশোনার ধরন বদলাতে বড় পদক্ষেপের পথে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে কর্পোরেট দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর জন্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের বোর্ড অফ স্টাডিজ়ে কর্পোরেট সংস্থার কর্তা ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শদাতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে উপাচার্যের কাছে।
গত দুই দশকে প্রথাগত বিষয়ের পড়াশোনার ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের সুযোগ কিছুটা কমেছে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদেরা। বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোল কিংবা গণিত, রসায়ন ও পদার্থবিদ্যার মতো বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করলেও চাকরির সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে- এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ফলে অনেক পড়ুয়াই এখন কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার দিকে ঝুঁকছেন।
এই পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মনে করছেন, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থা যে ধরনের দক্ষ কর্মী চায়, সেই চাহিদা মাথায় রেখে যদি পাঠ্যক্রম তৈরি করা যায়, তাহলে পড়ুয়াদের ভবিষ্যতে চাকরি পাওয়াও সহজ হবে। তাই শিল্পক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে নতুনভাবে পাঠ্যসূচি সাজানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রস্তাবটি ইতিমধ্যে বোর্ড অফ স্টাডিজ়ের সদস্যরা উত্থাপন করেছেন। তবে বিষয়টি এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন মিললে ভবিষ্যতে পাঠ্যক্রমে বড় পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
শুধু চাকরির সুযোগই নয়, পড়ুয়াদের উদ্যোক্তা হিসেবেও তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় ও তার অধীনস্থ কলেজগুলিতে ইনকিউবেশন সেন্টার তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে পড়ুয়ারা নতুন ব্যবসা বা স্টার্টআপ গড়ে তুলতে পারেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তাদের মতে, আধুনিক শিক্ষার লক্ষ্য শুধু ডিগ্রি দেওয়া নয়, বরং এমন দক্ষ মানুষ তৈরি করা যারা পেশাগত ভাবে প্রস্তুত এবং আত্মনির্ভর হতে পারে। সেই লক্ষ্যেই ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যক্রমে পরিবর্তনের ভাবনা শুরু হয়েছে।