রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা ঘিরে ফের অনিশ্চয়তার আবহ। সাধারণত দ্বাদশের পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর এপ্রিল-মে মাসেই আয়োজন করা হয় এই গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশিকা। গত বছর পরীক্ষা হয়েছিল ২৭ এপ্রিল। কিন্তু এ বছর এখনও পর্যন্ত পরীক্ষার দিন ঘোষণা হয়নি, এমনকি আবেদন প্রক্রিয়াও শুরু করা যায়নি। ফলে উদ্বেগে পড়ুয়া থেকে কলেজ কর্তৃপক্ষ সকলেই।
রাজ্যের জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান গৌতম পাল জানিয়েছেন, সময়মতো পরীক্ষা নেওয়াই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তবে উচ্চশিক্ষা দফতরের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও তিনি জানান।
সমস্যার মূল কারণ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন। ভোটের সম্ভাব্য সময়সীমা এপ্রিল-মে। ইতিমধ্যেই মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা এগিয়ে আনা হয়েছে। মার্চ মাস জুড়ে রয়েছে এসএসসি নিয়োগ পরীক্ষা ও অন্যান্য সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা। ফলে সময় বের করাই বড় প্রশ্ন।
শিক্ষকমহলের দাবি, ২০২৫ সালের ফলপ্রকাশের দিনই পরবর্তী বছরের পরীক্ষার দিন ঘোষণা করা উচিত ছিল। কারণ দেরি হলে ক্ষতি হয় সরাসরি রাজ্যের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলির। গত বছর ফল প্রকাশে প্রায় দু’মাস দেরি হয়েছিল। ফলে বহু মেধাবী ছাত্রছাত্রী সর্বভারতীয় জয়েন্টের ফলের ভিত্তিতে ভিন্ রাজ্যে চলে যান। অভিযোগ উঠেছিল, অপেক্ষাকৃত কম মেধার পড়ুয়ারাই ভর্তি হচ্ছেন রাজ্যের কলেজে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান স্বর্ণেন্দু সেন স্পষ্টই জানিয়েছেন, সময়মতো পরীক্ষা না হলে শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মেধাবী পড়ুয়া পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
এ দিকে সর্বভারতীয় জয়েন্ট (মেন)-এর ফল ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে, অ্যাডভান্সডের পরীক্ষাও আসন্ন। ফলে রাজ্য জয়েন্ট আরও পিছিয়ে পড়তে পারে বলেই আশঙ্কা।
ভোট, নিয়োগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সম্ভাব্য মোতায়েন-সব মিলিয়ে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ ঘনাচ্ছে। যত দেরি হবে, ততই ভিন্ রাজ্যে পড়তে ঝুঁকবেন পড়ুয়ারা। আর ততই চাপ বাড়বে রাজ্যের সরকারি ও বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলির উপর।