Calcutta Television Network

কুমারী থেকে নারীর 'পূর্ণতা', গতে বাধা হলিউডের বাইরে বেরিয়ে 'ফিফটি শেডস অফ গ্রে' !

কুমারী থেকে নারীর 'পূর্ণতা', গতে বাধা হলিউডের বাইরে বেরিয়ে 'ফিফটি শেডস অফ গ্রে' !

22 August 2026 , 12:31:50 pm

ভালোবাসা থাকলে, মনের সাথে শরীরও আসবে, আর এটাই চিরন্তন সত্য। সেই খাজুরাহোর আমল থেকে আজকের সময়, কাম আর যৌনতা, শুধু ভারত না গোটা পৃথিবীতেই কদর আছে। হলি-বলি আর টলি, গল্পকাররা অনেক সিনেমাতেই নারী পুরুষের এই আদিম খেলা এঁকেছেন বহুবার। ইতালি, ফ্রান্স, সুইডেন বা ডেনমার্ক, নারী পুরুষের এই যৌনতা দেখাতে কোনও আবরণ রাখে না। ইউরোপিয়ান সিনেমার কালচারে যেটা খুবই সাধারণ একটি বিষয়। অভিনেতা-অভিনেত্রীরা প্রত্যেকেই জন্মদিনের পোশাকে ক্যামেরার সামনে বেশ স্বচ্ছন্দ, শুধু তাই নয় যৌন দৃশ্যে অভিনয় নিয়েও তাদের ছুৎমার্গ নেই। হলিউড-ও এর সাথে টেক্কা দিলেও সামাজিক দিক মাথায় রেখে 'সেক্স' নিয়ে খুব বাড়াবাড়ি করে না। কিন্তু সময় বদলালো, দুঃসাহসের পরিচয় দিলেন তরুণ পরিচালক স্যাম টেলর জনসন। হলিউডের ফিল্ম কেন্দ্র থেকে নামী ষ্টুডিওর ব্যানারে এমন দুঃসাহসী সিনেমা মুক্তি পাবে আশা করেনি কেউই। 

২০১৫ সালে, মুক্তি পেলো ফিফটি শেডস অফ গ্রে, নারী-পুরুষের শরীর খেলার বিস্তৃত বিবরণ। কোথাও ছুঁয়ে যায় জীবন প্রণালী আবার কোথাও বিকৃত কাম। কলেজ স্টুডেন্ট আনাস্তাসিয়া আর কোটিপতি তরুণ ব্যবসায়ী ক্রিস্টিয়ানের প্রেম তারপর শারীরিক মিলনের বিস্তারিত ছবি যে ভাবে ফুটে উঠেছে, তাতে এই সিনেমা হলিউডে তোলফাড় ফেলে দেয়। বার্লিন উৎসবে সিনেমাটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারের পরের দিন গোটা বিশ্ব জুড়ে মুক্তি পায় সিনেমাটি। ডাকোটা জনসন আর জমি ডোরান, হলিউডের অপরিচিত দুই মুখ সিনেমার নায়ক-নায়িকা। কিন্তু তাদের শরীরের কেমিস্ট্রি মুগ্ধ করেছিল গোটা বিশ্বকে। 

আনাস্তাসিয়া সুন্দরী, 'কুমারী' সদ্য কলেজ যাওয়া একটি মেয়ে। কাজের সূত্রে আলাপ হয় সুপুরুষ তরুণ ব্যবসায়ী ক্রিস্টিয়ানের সাথে। তারপর জড়তা কাটিয়ে উঠলেই আনা-র মনে আর শরীরে বয়ে যায় যৌনতার বিদ্যুত। ওদিকে ক্রিস্টিয়ানও আনার শরীরে মুগ্ধ।  দ্বিতীয় দিনের সাক্ষাতের পরেই দুজনে সোজা বেডরুমে। রোমান্স-প্রেমে অবিশ্বাসী ক্রিস্টিয়ান বিছানায় প্রথম ও শেষ কথা। অনভিজ্ঞ আনা-ও উপভোগ করতে শুরু করলো এই নিষিদ্ধ খেলা। চলতে থাকে উদ্দাম ফোর প্লে, বাড়তে থাকে সিনেমার গতি। চাবুক, হ্যান্ডকাফ বা কাঁচি দিয়ে পোশাক কে দুভাগ করে দেওয়া, প্রতিটি দৃশ্যে পরিচালক ফুটিয়ে তুলেছে মানুষের নিষিদ্ধ কামের লুকানো গল্প। সিনেমা এগোয়, দুজনের যৌন উদ্দীপনা কমতে থাকে। শেষটায় আনা ফের হয়ে যায় একা। কিন্তু সে তখন অন্য মানুষ, এক পূর্ণ নারী।

নগ্নতা দেখানোয় এই সিনেমা টেক্কা দিয়েছে হলিউডের ট্রাডিশনাল সিনেমাকেও। চিত্রগ্রাহক সিমাস ম্যাকগার্ভে প্রতিটি উথালপাথাল যৌনতার দৃশ্য ফুটিয়ে তুলেছেন ছবির মত। লং শটে ডাকোটার নগ্ন শরীর দেখানো হলেও আড়ালে ছিল ক্রিস্টিয়ান। পুরুষ প্রভুত্বের এরকম দৃশ্য বহুকাল দেখেনি হলিউড। আপাত ভাবে এই ইন্ড্রাস্ট্রি স্বাধীন আর সমানাধিকারের কথা বললেও, মেল্ সোভনিজমকেই প্রাধান্য বেশি দেওয়া হয়। এই সিনেমাতেও প্রথম অংশে তার ব্যতিক্রম ছিল না, কিন্তু পরিচালক শেষ পর্যন্ত জিতিয়ে দিলেন আনা-কেই। 

গোটা বিশ্ব জুড়ে সিনেমাটি মুক্তি পেলেও, ভারতে মুক্তি পায়নি ফিফটি শেডস অফ গ্রে। ইলোরা-খাজুরাহোর দেশের সেন্সর বোর্ড আটকে দেয় সিনেমাটি। খোদ আমেরিকাতেও 'রেস্ট্রিক্টেড অডিয়েন্স' তকমা পেয়েছে ফিফটি শেড। কিন্তু গোটা পৃথিবী জুড়েই ভালো ব্যবসা করেছে সিনেমাটি। আনার কুমারী থেকে নারীতে রূপান্তর, গল্প আর ছবির মোচড়, সিনেমাটি কে গ্রে না যৌনতায় রঙিন করে তুলেছে।   


0 0 0

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে সমর্থন করেন?

Note:"আপনার তথ্যের গোপনীয়তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি বিশ্লেষণধর্মী কথোপকথন এবং এখানে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ বা প্রকাশ করা হবে না"
×
  • CTVN