বছর ৩০-এর সুনির্মল, বাইক চালানো ছেড়ে দিয়ে হঠাৎ সাইকেল ধরলো l জিজ্ঞাসা করা হল তাকে "শখে চলাচ্ছিস "? বলল- "নারে ভাই, ইউরিক এসিড বেড়েছে, সাথে বাত, ডাক্তার বলেছে ব্যায়াম করতে, নইলে বাড়াবাড়ি হবে।" বলে রাখি ছেলেটি একটি নামজাদা কোম্পানি তে চাকরি করে, আগে যাও বা অফিসে দৌড় ঝাঁপ চলতো, কোভিডের পরে সেটাও বন্ধ এখন, জিমে যাওয়ার সময় নেই, তাই আধা ঘন্টা, পয়তাল্লিশ মিনিট সাইকেলিং l
কোভিড আমাদের অনেক কিছু কেড়েছে আবার দিয়েছেও অনেক কিছু l তার মধ্যে সবচেয়ে বড়ো পাওনা এই ফিটনেস আর সাইকেল l 2020 সালের কথা, ভরা লক ডাউনে গোটা কলকাতা যখন স্তব্ধ, তখন দাপিয়ে বেরিয়েছে এই সাইকেল l এই নয় যে আমরা যারা এখন সাইকেল চালাই, তাঁরা আগে চালাতাম না l ছোটো বেলায়, স্কুল বা দোকান সাইকেল ই ভরসা ছিলো, এমনকি সাইকেলে গোটা কলকাতা, বা কলকাতার বাইরেও বহুবার গেছি, কিন্তু তখন সাইকেলের এত চাহিদা ছিলো না l আজ সাইকেলের দোকানে যখন ভীড় দেখি, বা লোকের আগ্রহ দেখি, সত্যিই খুব ভালো লাগে l উৎসাহ টা বজায় থাক আজীবন l গাড়ি, বাইকের পাশে সাইকেল টাও দৈনন্দিন জীবনে সাথী হোক l এবার দেখি সাইকেল চলানোর কিছু উপকারিতা
নিয়মিত সাইকেল চালালে—
১. হৃদ্যন্ত্রের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়
২. শরীরের চর্বির মাত্রা হ্রাস পায়
৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়
৪. মানসিক উদ্বেগ ও বিষণ্নতা হ্রাস পায়
৫. পেশিশক্তি ও স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি পায়
৬. অস্থিসন্ধির গতিশীলতার উন্নয়ন হয়
৭. উন্নত অঙ্গবিন্যাস ও তার সমন্বয় সাধিত হয়
৮. হাড় মজবুত হয়।
এগুলো একটা হিমশৈলের চূড়া মাত্র l আমাদের বাবাদের অনেকেই এখনও সাইকেলে প্যাডেল করে কাজ চালায়, তারা মানসিক এবং শারীরিক দুভাবেই যথেষ্ট সুস্থ এযাবৎ l
অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, "আধুনিক সভ্যতার শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার বাইসাইকেল। তাতে তেল লাগেনা, কয়লা লাগেনা, মানুষটা বলতে গেলে নিজের পায়েই চলছে, কিন্তু গতি কত বেড়ে গেছে!" কলকাতায় সাইকেল লেনের দাবী জানিয়ে বহু দরবার করা হলেও, সরকার সেভাবে গুরুত্ব দেয়নি l সেক্ষেত্রে কিছুটা বিপদ নিয়েই সাইকেল নিয়ে যাতায়াত করতে হয় l ভাইজাগ, চেন্নাই শহর গুলো পেরেছে, আমরাও হয়ত কোনোদিন পারবো l অনেকেই সাইকেল যেমন শখে চালায়, তেমনি দিন আনি দিন খাওয়া মানুষ গুলোর যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এটা l পরিবেশ, শরীর ও সাশ্রয় তিনটে দিকের খেয়াল...l আজ না হোক কাল তিলোত্তমার বুকে একটা লেন থাকবে, যেখানে শুধুই সারি সারি সাইকেল...l