দুর্গাপুজো বাঙালির প্রাণের উৎসব। শারদোৎসব মানেই সকাল থেকে রাতভর প্যান্ডেল হপিং, নতুন জামাকাপড়, মিষ্টি আর ফুচকার স্বাদ, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, হাসি-মজা। তবে বাড়ির প্রবীণ সদস্যদের জন্য এই সময়টা আনন্দের থেকে বেশি চ্যালেঞ্জের হতে পারে। তাদের অসুস্থতা, চলাফেরার অসুবিধে, শব্দদূষণ, খাবারদাবার কিংবা জরুরি চিকিৎসার অভাব-সব মিলিয়ে সমস্যার ঝুঁকি অনেকটাই বাড়ে। তাই পুজোর আনন্দের সঙ্গে সঙ্গে প্রবীণদের সুরক্ষা ও সুস্থতার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
পুজোর সময় অনেক ডাক্তার ছুটিতে থাকেন। তাই পরিবারের প্রবীণদের যদি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হার্টের অসুখ বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা থাকে, তবে আগেভাগেই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওষুধ ও প্রাথমিক চিকিৎসার পরিকল্পনা ঠিক করে নিতে হবে।
নিয়মিত ওষুধপত্র, প্রেসক্রিপশন, গ্লুকোমিটার, ব্লাড প্রেসার মেশিন, ইনহেলার বা অক্সিজেন সিলিন্ডার-সব আগেই প্রস্তুত রাখতে হবে।
লাউডস্পিকার, বাজি, ধোঁয়া প্রবীণদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তাই বাড়ির দরজা-জানলা বন্ধ রাখা, পুজো কমিটিকে অনুরোধ করা, এবং বয়স্কদের এসব উৎস থেকে দূরে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
বাইরের তেল-মশলাযুক্ত খাবার বা অতিরিক্ত মিষ্টি এড়ানো উচিত। হালকা, ঘরোয়া ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে। নিয়মিত ওষুধের মতো সময়মতো খাবারও খাওয়াতে হবে।
প্রবীণরা অনেক সময় একাকিত্বে ভোগেন। পুজোর ভিড়-ভাট্টায় তারা যেন অবহেলিত না হন, সেটা পরিবারের ছোটদেরও খেয়াল রাখতে হবে। একসঙ্গে আড্ডা, টেলিভিশনে পুজো অনুষ্ঠান দেখা কিংবা প্রিয় গান বাজানো তাদের মন ভালো রাখবে।
বড় দুর্ঘটনা বা হঠাৎ অসুস্থ হলে কোথায় যোগাযোগ করতে হবে, কোন হাসপাতালে ভর্তি করা যাবে, কোন ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্ত পাওয়া যায়-এসব তথ্য আগেভাগেই জেনে রাখা দরকার।
অনেক সংস্থা পুজোর সময় ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স, রক্তদান ও চিকিৎসা পরিষেবা চালু রাখে। এসব সংস্থার নম্বর পরিবারের কাছে রাখতে হবে।
বড় প্যান্ডেলের এলাকায় যানজটের কারণে অ্যাম্বুলেন্স বিলম্বিত হতে পারে। তাই আগে থেকে বিকল্প রাস্তা খোঁজা বা পুলিস হেল্পলাইনের নম্বর হাতে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
অক্সিজেন, রক্ত, ইনজেকশন বা প্যারা-মেডিকেল স্টাফের সাহায্য যেন দ্রুত পাওয়া যায়, সেই ব্যবস্থা রাখতে হবে।