খেতে বসেই অনেক সময়েই হেঁচকি ওঠে, সেইসময়ে আমরা তড়িঘড়ি করে বেশ অনেকটা জল পান করি যাতে হেঁচকি ওঠা কমে যায়। আবার, কোনো কোনো সময়ে কিছু না খেয়েও আচমকাই হেঁচকি উঠতে শুরু করে। আবার, কোনো সময়ে হেঁচকি উঠে খাবার গলায় আটকে গিয়ে প্রাণ বেরিয়ে যাওয়ার মতন অবস্থা হয়। এ যেন জীবনের নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনার মধ্যে একটি। এই ঘটনাকে আমরা নিছকই কোনো গুরুত্ব দিই না। কিন্তু, কোন কারণে এমন হেঁচকি ওঠে?
হেঁচকি হওয়ার মূল কারণ হল মধ্যচ্ছদা বা ডায়াফ্রামের হঠাৎ সংকোচন। ডায়াফ্রাম হল আমাদের বুক এবং পেটের মাঝখানে থাকা একটি পেশি, যা শ্বাস-প্রশ্বাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কোনো কারণে এই পেশি হঠাৎ করে সংকুচিত হলে বাতাস দ্রুত ফুসফুসে প্রবেশ করে। এই সময় আমাদের স্বরযন্ত্রে থাকা ভোকাল কর্ড বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে 'হেঁচকি' উঠতে শুরু হয়।
হেঁচকি ওঠার বিবিধ কারণ:
খাবার ও পানীয়: খুব দ্রুত খাবার বা পানীয় গ্রহণ করলে, অতিরিক্ত ঝাল ও মশলাযুক্ত খাবার খেলে, বা অতিরিক্ত কার্বনেটেড পানীয় (যেমন: সোডা) পান করলে হেঁচকি উঠতে পারে।
পেটে অতিরিক্ত চাপ: একবারে বেশি খাবার খেয়ে ফেললে বা পেট ফুলে গেলে পেটের ভেতরের চাপ বেড়ে যায়, যা ডায়াফ্রামের ওপর চাপ ফেলে।
মানসিক চাপ: অতিরিক্ত মানসিক চাপ, উত্তেজনা বা ভয় পেলে হেঁচকি উঠতে পারে।
তাপমাত্রার পরিবর্তন: শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ করে কমে গেলে বা বেড়ে গেলে ডায়াফ্রাম সংকুচিত হতে পারে।
অ্যালকোহল সেবন: অতিরিক্ত মদ্যপান পাকস্থলীতে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা ডায়াফ্রামে চাপ ফেলে। ফলে, হেঁচকি উঠতে পারে।
সাধারণত, হেঁচকি কয়েক মিনিটের মধ্যেই নিজে থেকে সেরে যায়। তবে যদি এটি একটানা ৪৮ ঘণ্টার বেশি থাকে, তবে তা কোনো গুরুতর রোগের লক্ষণ হতে পারে এবং সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।