অনেকেই মনে করেন পিরিয়ড অনিয়মিত হলেই এর পিছনে থাকে হরমোনের গোলমাল। কিন্তু স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সত্যিটা এত সহজ নয়। আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাস, জীবনযাপনের ছোটখাটো ভুল এবং মানসিক চাপ-এসবই মাসিক চক্রকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে। হরমোনাল সমস্যা ছাড়াও এমন বহু কারণ রয়েছে যা সাময়িকভাবে ওভিউলেশন বিলম্বিত করে ও পিরিয়ডকে অনিয়মিত করে তোলে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক চাপ পিরিয়ড দেরি হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। কাজের চাপ, ব্যক্তিগত সমস্যা বা উদ্বেগ মস্তিষ্কে থাকা হরমোন নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে প্রভাব ফেলে। ফলে ওভিউলেশনের সময় পিছিয়ে যায়।
অসুস্থতা, যেমন জ্বর বা ভাইরাল সংক্রমণ, শরীরের স্বাভাবিক রিদমকে নষ্ট করে সাময়িকভাবে চক্রকে বিঘ্নিত করতে পারে। দীর্ঘ ভ্রমণ বা জেট ল্যাগ বায়োলজিকাল ক্লক নষ্ট করে, ফলে মাসিক দেরি হওয়া স্বাভাবিক।
ওজন হঠাৎ কমে যাওয়া বা বাড়া শরীরকে বার্তা দেয় যে শক্তির ভারসাম্য ঠিক নেই। তখন শরীর নিজেই পিরিয়ডের প্রক্রিয়া ধীর করে দেয়। একইভাবে অতিরিক্ত এক্সারসাইজ, জিমে অতিরিক্ত চাপ নেওয়া বা মারাথন দৌড়ানোও মাসিক পিছোতে পারে।
ঘুমের অভাব আরেকটি বড় কারণ। রাতে ঠিকমতো না ঘুমালে শরীরের হরমোন নিয়ন্ত্রণ বদলে যায়। পাশাপাশি আয়রন, ভিটামিন ডি বা বি–১২-এর ঘাটতি ও কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ (যেমন স্টেরয়েড, অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট) চক্রকে বিঘ্নিত করতে পারে।
এই সব কারণেই মস্তিষ্ক ও ওভারি–এর মধ্যে 'সিগনালিং সিস্টেম' ব্যাহত হয়। ডিম্বাণু নির্গমন বিলম্বিত হয়, ফলে পিরিয়ড দেরি করে আসে বা রক্তপাত কম হয়।
তবে চিন্তার বিষয় নয়-বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এ ধরনের অনিয়ম জীবনযাত্রায় ছোট্ট পরিবর্তনেই ঠিক হয়ে যায়। যদি ২-৩ মাস ধরে পিরিয়ড অনিয়মিত থাকে, যদি পিরিয়ড সার্কেল ৪৫-৬০ দিনের বেশি দীর্ঘ হয়, রক্তপাত অত্যন্ত কম বা অস্বাভাবিক বেশি হয় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। শরীরকে বিশ্রাম দিলে, সঠিক ঘুমালে, পুষ্টিকর খাবার খেলে এবং স্ট্রেস-মুক্ত রাখলেই অধিকাংশ মেয়েদের পিরিয়ড ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে যায়।