দোল বা হোলির আনন্দে অনেকেই মজা করে ভাঙ খান। কিন্তু কখনও কখনও মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে শরীর ও মন দুটোই কষ্ট পায় ভাঙের প্রভাবে। মাথা ঘোরা, বমিভাব, গা শুকিয়ে যাওয়া, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, অস্থিরতা বা অতিরিক্ত ঘুম—এসবই ভাঙের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। ভাঙ মূলত গাঁজা গাছ থেকে তৈরি, যার বৈজ্ঞানিক নাম Cannabis sativa। এতে থাকা টিএইচসি যা মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে এবং নেশার অনুভূতি তৈরি করে। কিন্তু এর প্রভাবে গা কষে যায় এমনও বহু মানুষ আছেন। কিন্তু কী করবেন তেমন হলে জানেন?
সবার প্রথমে যেটা করতে হবে, তা হল প্রচুর পরিমাণে জল পান। ভাঙ খেলে শরীর ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায়। তাই জল, লেবুর শরবত, ডাবের জল বা ওআরএস পান করুন। এতে শরীরের জলশূন্যতা কমবে এবং অস্বস্তি কিছুটা লাঘব হবে। চিনিযুক্ত খাবার বা মিষ্টি ফল যেমন কলা, আম, আঙুর খেলে শরীরে দ্রুত শক্তি আসে। অনেক সময় রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলে দুর্বল লাগে, তা সামাল দিতে মিষ্টি সহায়ক। এছাড়াও বিশ্রামের প্রয়োজন রয়েছে। শরীর কষে গেলে বা মাথা ঘুরলে চুপচাপ শুয়ে পড়ুন। ভিড় বা উচ্চ শব্দ এড়িয়ে শান্ত পরিবেশে থাকুন। এতে উদ্বেগ কমবে।
অনেকে বলেন, এক-দু’টি গোলমরিচ চিবিয়ে খেলে নেশার প্রভাব কিছুটা কমে। আদা বমিভাব কমাতে সাহায্য করে। যদিও ভাঙের নেশা সাময়িক। সাধারণত ৬–৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রভাব কমে যায়। আতঙ্কিত হলে হৃদস্পন্দন আরও বেড়ে যেতে পারে। গভীর শ্বাস নিন, নিজেকে শান্ত রাখুন। কিন্তু যদি অতিরিক্ত বমি, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড়, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা অস্বাভাবিক আচরণ দেখা যায়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। দোলের আনন্দ হোক নিরাপদ। ভবিষ্যতে ভাঙ খেলে পরিমিত পরিমাণে খান এবং খালি পেটে একেবারেই নয়। সচেতন থাকলেই উৎসবের রং থাকবে আনন্দময়।