একসময় মাখানা মানেই ছিল পুজো পার্বণ আর উপবাসের দিনের খাবার। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। আজকের দিনে জিম-প্রেমী থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ-সবার ডাইনিং টেবিলেই জায়গা করে নিয়েছে এই জনপ্রিয় সুপারফুড। ইংরেজিতে এর নাম ফক্স নাটস বা লোটাস সিডস। কম ক্যালোরি, প্রচুর ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট আর নানা খনিজ পদার্থের কারণে ডাক্তাররাও একে বলেন সুপারফুড।
তবে এখানেই শেষ নয়-যতই গুণ থাকুক, মাখানা কিন্তু সবার জন্য সমান উপকারী নয়। বরং কিছু মানুষের জন্য এটি হয়ে উঠতে পারে ভয়ংকর!
চলুন জেনে নেওয়া যাক-কারা মাখানা খাওয়ার সময় সাবধান হবেন।
মাখানায় রয়েছে প্রচুর পটাশিয়াম। যাদের কিডনিতে সমস্যা আছে, তাদের শরীর অতিরিক্ত পটাশিয়াম বের করতে পারে না। এর ফলে অনিয়মিত হার্টবিট, দুর্বলতা, এমনকি গুরুতর জটিলতা পর্যন্ত তৈরি হতে পারে। তাই কিডনি রোগীরা বেশি মাখানা খাওয়া থেকে বিরত থাকাই ভালো।
যদিও মাখানার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম, তবে বেশি খেলে রক্তে শর্করার ওঠানামা হতে পারে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের মাখানা খেতে হবে সীমিত মাত্রায়, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে।
মাখানায় ফাইবার অনেক, যা অনেকের জন্য তাই এটা আশীর্বাদ। কিন্তু অতিরিক্ত খেলে দেখা দিতে পারে পেট ফাঁপা, গ্যাস কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্য। হজমশক্তি দুর্বল যারা, তাদের জন্য মাখানা অতিরিক্ত খাওয়া মানেই বিপদ ডেকে আনা।
হ্যাঁ, শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি-কিছু মানুষের শরীর বাদামের মতো মাখানার প্রতিও অ্যালার্জি দেখাতে পারে। গায়ে ফুসকুড়ি, চুলকানি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করতে হবে মাখানা খাওয়া।
সাধারণ মাখানা কম ক্যালোরির হলেও, সমস্যা হয় যখন আমরা তাতে ঘি, তেল বা মশলা মিশিয়ে ভেজে খাই। এতে বাড়তি ক্যালোরি আর ফ্যাট জমে শরীরে, যার ফল-ওজন বেড়ে যাওয়া।
মাখানা নিঃসন্দেহে একটি পুষ্টিকর সুপারফুড। তবে সুপারফুড মানেই যে সবার জন্য সুপার-ভালো, তা নয়। যাদের শরীরে বিশেষ সমস্যা আছে, তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মনে রাখবেন, খাবারের গুণ যতই থাকুক, অতিরিক্ত খাওয়া কোনও দিনই শরীরের জন্য ভালো নয়।