শরীরকে সুস্থ রাখতে ফলের জুড়ি মেলা ভার। শরীরকে ভেতর সুস্থ থেকে রাখতে মরসুমি ফল খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। নানা ধরনের স্বাস্থ্যকর উপাদানে সমৃদ্ধ ফল শরীর সুস্থ রাখে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ওজন কমানোর চেষ্টা যাঁরা করছেন, তাঁদের রোজের খাদ্যতালিকায় ফল রাখার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। ফলে থাকা ফাইবার হজমক্ষমতা বাড়ায়। শরীরের মেদ জমতে দেয় যায় না। ফলের রয়েছে বহুমুখী গুণ। ত্বকের যত্ন ও শরীরের জলের ঘাটতি পূরণ করতে ফলের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই বলা যেতে পারে শরীরের খেয়াল রাখতে ফলের কোনো বিকল্প নেই। তবে মরসুমি ফল খাওয়ার অনেক উপকারীতা আছে। যে ঋতুতে যে ফল হয়, সে ঋতুতে সেই ফলটাই আমাদের শরীরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলুন একনজরে দেখে নিই মরসুমি ফল খাওয়ার উপকারীতা।
যে মরসুমে যে ফল পাওয়া যায়, সেই ঋতুতে সেই ফল খাওয়া দরকার। প্রত্যেক ঋতুর কিছু ভালোমন্দ দিক থাকে। বিভিন্ন ঋতুতে বিভিন্ন রোগ সংক্রমণ দেখা যায়। সেই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে সেই মরসুমি ফল খেয়ে। প্রাকৃতিক ভাবে সেই মরসুমে সেই ফলই পাওয়া যায়। রোগকে প্রতিরোধ করার জন্য। মরসুমি ফল খেলে রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়। তাই মরসুমি ফল খাওয়া শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
১. মরসুমেরই প্রথমে আগমন ঘটে গ্রীষ্মের। গ্রীষ্মে যে সমস্ত ফলগুলি পাওয়া যায়। সেগুলি গরমের জন্য খুবই উপকারী। গরমে ঘামের সাথে শরীরের জল বেরিয়ে যায়। তাই জল জাতীয় ফল খাওয়া দরকার। যেমন সারা গরমকাল তরমুজ খেলে শরীরে জলের ঘাটতি মিটবে। কারণ এই ফলের ৯২ শতাংশই জলে পরিপূর্ণ। তরমুজে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন এ, বি৬ এবং সি। তরমুজের বীজেও রয়েছে নানান উপকারী উপাদান। যেমন- পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ভিটামিন বি। এছাড়া আম খেতে পারেন। আপনাদের হয়তো অনেকেরই জানা নেই যে কাঁচা আমের শরবত খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে।হিট স্ট্রোকের আশঙ্কাও কমে। তাই এই গরমে \'লু\'- এর হাত থেকে বাঁচতে আম খান। পাকা আম শরীরের জন্য খুবই উপকারী। হলুদ জাতীয় ফল রাত কান্নার সমস্যা থেকে সমাধান দিতে পারে। এছাড়া হজমের জন্য পেঁপে পেতে আর ত্বকের জেল্লার জন্য পেঁপে মাখতে পারেন। এছাড়া গরমে জলের ঘাটতি পূরনের জন্য শশা, ডাবের জল ইত্যাদি পারেন।
২. বর্ষায় বেশিরভাগ মানুষেরই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা কমে যায়। কারণ নানারকম সংক্রমণ এই সময়ে দেখা দিতে থাকে। বর্ষাকালে জ্বর-সর্দি-কাশির পাশাপাশি হজমের সমস্যা দেখা দেয় এবং মশাবাহিত রোগের সমস্যা বেড়ে যেতে যায়। এই সময়ে সুস্থ পাতে রাখতে পারেন মরসুমি ফল যেমন পেয়ারাতে থাকে ভিটামিন সি। আর ভিটামিন সি শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি করে শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তাছাড়া যে কোন ইনফেকশন থেকে পেয়ারা শরীরকে সুস্থ রাখে। বর্ষায় দেখা দেয় জন্ডিস এবং পেটের বিভিন্ন রোগ আর তাই খেতে পারেন বাতাবি লেবু। হজমের জন্য খুবই দরকারী। জাম বর্ষাকালের একটি অন্যতম ফল। এতে ক্যালোরি কম রয়েছে এবং আয়রন, ফোলেট, পটাসিয়াম এবং ভিটামিন জাতীয় পুষ্টি রয়েছে। বর্ষার সময় কালো জাম খাওয়া ভালো। হজমের সমস্যা হলে খেতে পারেন আনারস।
৩.শরত ঋতু বর্ষার শেষ এবং শীতের ঋতুর শুরু তাই এই সময়ে শরীর খারাপ, ঠান্ডা লাগার প্রবণতা থাকে। যদিও ভারতে ঋতু খুব বেশি দীর্ঘ নয়। এই ঋতুতে সুস্থ থাকতে পাতে রাখুন ডুমুর। ডুমুর রক্ত নিয়ন্ত্রনে সাহায্য করে, হাড় মজবুত করে। হার্টকেও ভালো রাখে। রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে খেতে পারেন পানিফল, তাল ইত্যাদি।
৪. শীতের শুরু আগে হেমন্তের দেখা মেলে। তাই এই সময় প্রচুর টক খাবার খাবার দরকার। এই সময় খেতে পারে আমলকি, জলপাই, কামরাঙা ইত্যাদি। শীতকালে ত্বককে এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে হেমন্ত থেকেই টক জাতীয় ফল খাওয়ান শুরু করতে হবে। আমলকির মধ্যে আছে চুলের মূল উপাদান কোরোটিন। এমনকি খুশকি নিরাময়ের জন্য আমলকি খুবই উপকারী।
৫. শীতকালে সকলেই ত্বক নিয়ে চিন্তিত থাকে। তাই শীতকালে কমলালেবু অন্যতম ফল যা ত্বককে ভালো রাখবে। কমলালেবুতে আছে ভিটামিন সি যা ত্বককে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও পাতে রাখতে পারেন শাঁকালু, বীট, গাজর, কুল ইত্যাদি।
৬. শেষ ঋতু হল বসন্ত। এই একটু একটু গরমের আগমন হতে থাকে। তাই চিকেন পক্স, ঠান্ডা লাগা দেখা যায়। আর তাই জন্য খেতে পারেন মরসুমি ফল যেমন চেরি ছাড়া বসন্ত কখনই সম্পূর্ণ হতে পারে না। চেরি ফলের মধ্যে অনেক গুন আছে। যেমন রক্তচাপ কমায়। ত্বকের জেল্লা বাড়ায়। এছাড়া খেতে পারেন স্ট্রবেরি। ফলটির অনেক ভিটামিন আছে ভিটামিন সি এবং ভিটামিন এ যথেষ্ট পরিমাণে উপস্থিত রয়েছে। এই কারণে, ফলটি চোখ এবং মাড়ির জন্য খুবই উপকারী। এছাড়া খেতে পারেন আঙুর। আঙুরে আছে প্রচুর অ্যন্টি অক্সাইড। যা ত্বকের ভালো রাখে।
কিছু ফল সারা বছর পাওয়া যায়। যেমন কলা, পেঁপে, বেদানা ইত্যাদি। মরসুমি ফলের পাশাপাশি এই ফলগুলিও অবশ্যই খেতে পারেন। কিন্তু যদি আপনি কোনো রোগে আক্রান্ত না হন। যদি কোনো চিকিৎসাধীনের থাকেন তাহলে ওই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তবেই ফল খাবেন।