ফাল্গুনী পূর্ণিমা মানেই দোলযাত্রা... রঙ, প্রেম ও ভক্তির এক অনন্য উৎসব। বাংলায় দোল মূলত রাধা-কৃষ্ণকেন্দ্রিক হলেও, এই তিথির ধর্মীয় তাৎপর্য আরও বিস্তৃত। শাস্ত্র মতে, এই দিন মহাদেব ও শ্রীবিষ্ণুর আরাধনাতেও বিশেষ ফল লাভ হতে পারে।
দোলের সূচনা হয় আগের দিনের ‘নেড়াপোড়া’ দিয়ে, যা অশুভ শক্তির দহনকে প্রতীকীভাবে প্রকাশ করে। পরদিন শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার বিগ্রহে আবির অর্পণের মাধ্যমে প্রেম ও ভক্তির উৎসব পালন করা হয়। একই সঙ্গে এই দিনটি চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মতিথি হিসেবেও উদযাপিত হয়।
হোলির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক জড়িয়ে আছে প্রহ্লাদ-এর কাহিনির সঙ্গে। ভাগবত পুরাণ অনুসারে, অসুর রাজা হিরণ্যকশিপু তাঁর বিষ্ণুভক্ত পুত্র প্রহ্লাদকে হত্যার চেষ্টা করেন বোন হোলিকার সাহায্যে। কিন্তু অগ্নিদাহে হোলিকারই মৃত্যু হয়, আর প্রহ্লাদ রক্ষা পান ভগবান বিষ্ণুর কৃপায়। তাই হোলিকা দহন অশুভের বিনাশ ও শুভের জয়ের প্রতীক।
দক্ষিণ ভারতে আবার এই তিথি জড়িয়ে রয়েছে শিব ও পার্বতীর কাহিনির সঙ্গে। কামদেবের ধ্যানভঙ্গের ঘটনায় শিবের ক্রোধ ও পরে রতির তপস্যায় কামদেবের পুনর্জন্ম-এই ঘটনাও এই সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মানা হয়।
জ্যোতিষ মতে, ফাল্গুনী পূর্ণিমায় গ্রহ-নক্ষত্রের বিশেষ অবস্থান শুভ-অশুভ যোগ সৃষ্টি করে। তাই এই দিনে ভক্তিভরে রাধা-কৃষ্ণ, শ্রীবিষ্ণু ও মহাদেবের উপাসনা প্রেম, বিদ্যা ও আর্থিক উন্নতিতে সহায়ক হতে পারে।