রমজান মাস ইসলাম ধর্মে ইবাদত, সংযম ও আত্মশুদ্ধির মাস। সুবহে সাদিকের আগে সেহরি খেয়ে সারাদিন রোজা রাখার পর সূর্যাস্তে মাগরিবের নামাজ পড়ে ইফতার করা হয়। আর ইফতার শুরু হয় খেজুর দিয়ে... এই প্রথা শুধু রীতি নয়, এর রয়েছে গভীর ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক তাৎপর্য।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মহানবী Muhammad (সা.) খেজুর দিয়ে ইফতার করতে ভালোবাসতেন। হাদিসে উল্লেখ আছে... খেজুর না পেলে তিনি জল দিয়ে রোজা ভাঙতেন। তাই তাঁর সুন্নত অনুসরণ করেই মুসলিমরা আজও খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করেন। Quran-এ খেজুরকে বরকতময় ফল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামি ঐতিহ্যে এটি পবিত্র, পুষ্টিকর ও আল্লাহর নিয়ামত হিসেবে বিবেচিত। খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙলে সওয়াব লাভ হয়... এমন বিশ্বাসও প্রচলিত।
বৈজ্ঞানিক দিক থেকেও খেজুর আদর্শ ইফতার খাদ্য। সারাদিন উপোসে শরীরের গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায়। খেজুরে থাকা প্রাকৃতিক চিনি দ্রুত শক্তি জোগায় এবং শরীরকে চাঙা করে। এতে রয়েছে প্রচুর ফাইবার, যা হজমে সহায়ক। দীর্ঘ সময় জল না খাওয়ার ফলে শরীরে যে ক্লান্তি বা মাথাব্যথা দেখা দেয়, খেজুরের ভিটামিন ও খনিজ উপাদান তা দূর করতে সাহায্য করে। ফলে শরীর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
রমজানের মূল উদ্দেশ্য হল আত্মসংযম, ধৈর্য ও সহমর্মিতা অর্জন। রোজা মানুষকে গরিব-দুঃখীর কষ্ট উপলব্ধি করতে শেখায় এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের পথ দেখায়।
২০২৬ সালে রমজান কবে শুরু হবে তা নির্ভর করবে চাঁদ দেখার উপর। ইসলামি ক্যালেন্ডার চাঁদ-নির্ভর হওয়ায় সঠিক তারিখ চাঁদ দর্শনের পরই ঘোষণা করা হয়।