Calcutta Television Network

ঐশ্বরিক লীলা নাকি মনস্তত্ত্ব? বিতর্কের কেন্দ্রে রামকৃষ্ণ

ঐশ্বরিক লীলা নাকি মনস্তত্ত্ব? বিতর্কের কেন্দ্রে রামকৃষ্ণ

20 February 2026 , 10:24:45 am

উনিশ শতকের আধ্যাত্মিক জগতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হলেন শ্রী রামকৃষ্ণ। তাঁর জীবনকথা শুধু সাধনা বা ধর্মচর্চার ইতিহাস নয়, বরং এক বিস্ময়কর অলৌকিক অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার। ভক্তরা এগুলিকে ‘ঐশ্বরিক লীলা’ বলে মানেন, আবার মনস্তত্ত্ববিদরা দেখেন গভীর মানসিক তন্ময়তা ও আধ্যাত্মিক উন্মাদনার দৃষ্টান্ত হিসেবে। সত্য-মিথ্যা বিচার ইতিহাসের হাতে ছেড়ে দিয়ে, বিবাহপূর্ব জীবনের দশটি কিংবদন্তিতুল্য ঘটনার সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা রইল।

প্রথমেই জন্মপূর্ব পূর্বাভাস। শোনা যায়, ১৮৩৫ সালে গয়ায় তীর্থভ্রমণে গিয়ে তাঁর পিতা ক্ষুদিরাম স্বপ্নে বিষ্ণু-অবতার গদাধরকে দেখেন। সেই স্বপ্নেই ভবিষ্যদ্বাণী-তিনি ক্ষুদিরামের সন্তান রূপে জন্ম নেবেন। এক বছর পরেই জন্ম নেন গদাধর, যিনি পরবর্তীকালে শ্রী রামকৃষ্ণ নামে খ্যাত হন।


মাতৃ-অভিজ্ঞতাও ছিল তেমনই রহস্যময়। জননী চন্দ্রাদেবী শিবমন্দিরে পুজো দিতে গিয়ে দেখেন, মহাদেবের শরীর থেকে নির্গত এক দিব্যজ্যোতি তাঁর দেহে প্রবেশ করছে। অল্পদিনের মধ্যেই তিনি গর্ভবতী হন। ভক্তদের মতে, এই ঘটনাই ঈশ্বরীয় অবতারের সূচনা।

শৈশবেই প্রকাশ পায় তাঁর ভাবতন্ময়তা। ছয়-সাত বছর বয়সে কালো মেঘের পটভূমিতে সাদা বকের উড়ান দেখে তিনি এতটাই অভিভূত হন যে অচৈতন্য হয়ে পড়েন। জ্ঞান ফেরার পর স্বাভাবিক হয়ে যান। এটিকেই অনেকেই তাঁর প্রথম ‘ভাবসমাধি’ বলে মনে করেন।

আট বছর বয়সে বিশালাক্ষী দেবীর পূজায় নামগান করতে করতে পুনরায় তন্ময় হয়ে পড়েন। অবিরাম অশ্রুধারা গড়াতে থাকে। উপস্থিত মহিলারা ভীত হয়ে দেবীর কাছে প্রার্থনা করেন। কিছুক্ষণ পরে তিনি স্বাভাবিক হন।

শিবরাত্রির যাত্রায় শিবের ভূমিকায় অভিনয় করতে গিয়ে গদাধর যেন চরিত্রের মধ্যেই বিলীন হয়ে যান। মঞ্চে দাঁড়িয়েই ভাবাবিষ্ট হয়ে পড়েন, চোখ বেয়ে ঝরতে থাকে জল। পরদিন সকাল পর্যন্ত সেই তন্ময় অবস্থা স্থায়ী ছিল।

দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরে পূজারত অবস্থায় দেবী দর্শন না পেয়ে একদিন আত্মাহুতির সিদ্ধান্ত নেন। ঠিক সেই সময় তাঁর সামনে প্রকাশ পায় জ্যোতিঃপুঞ্জে আচ্ছন্ন এক অপূর্ব রূপ... যা তিনি জগন্মাতার দর্শন বলে অনুভব করেন। অভিভূত হয়ে অচৈতন্য হয়ে পড়েন তিনি।

একবার পুজোর সময় রানি রাসমণিকে আলতো স্পর্শ করে বলেন, 'এখানেও ওই চিন্তা!' রানি পরে স্বীকার করেন, দেবীর ধ্যানে নয়, একটি মামলার চিন্তায় ডুবে ছিলেন তিনি। এই ঘটনাকে অনেকে তাঁর অন্তর্দৃষ্টির প্রমাণ বলে মনে করেন।

মথুরবাবুর আবদারে তাঁকে ভাবসমাধির অভিজ্ঞতা দান করার ঘটনাও উল্লেখযোগ্য। সমাধিস্থ হয়ে মথুরবাবু পরে অনুনয় করেন... এই অবস্থা থেকে মুক্তি চান। ঠাকুর হেসে বলেন, 'ভাবসমাধি সকলের সয় না।'

খুড়তুতো দাদা হলধারীর অভিশাপ, 'মুখ দিয়ে রক্ত উঠবে'-কয়েকদিন পর সত্যি হয়। এক সাধু ব্যাখ্যা দেন, এটি হঠযোগের চরম অবস্থার ফল; রক্ত বেরিয়ে যাওয়ায় বিপদ কেটেছে।


শেষ ঘটনা তাঁর বিবাহসংক্রান্ত। মা চন্দ্রাদেবী ও দাদা রামেশ্বর যখন উপযুক্ত পাত্রী খুঁজে পাচ্ছিলেন না, তখন ভাবাবিষ্ট অবস্থায় তিনি নিজেই জানান... জয়রামবাটীর এক পঞ্চম বর্ষীয়া কন্যাই তাঁর জন্য নির্ধারিত। খোঁজ নিয়ে সত্যিই পাওয়া যায় সেই কন্যাকে, যিনি পরবর্তীকালে মা সারদা নামে পূজিতা হন।

এই দশটি ঘটনা আজও ভক্তমনে বিস্ময় জাগায়। কেউ দেখেন অলৌকিকতা, কেউ দেখেন গভীর আধ্যাত্মিক মনস্তত্ত্ব। কিন্তু একথা অস্বীকারের উপায় নেই... শ্রী রামকৃষ্ণের জীবন ভারতীয় আধ্যাত্মিক ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়।

0 0 0

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে সমর্থন করেন?

Note:"আপনার তথ্যের গোপনীয়তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি বিশ্লেষণধর্মী কথোপকথন এবং এখানে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ বা প্রকাশ করা হবে না"
×
  • CTVN