ভারতে কোথায় প্রথম দুর্গা পূজা শুরু হয়েছিল--তা সঠিক ভাবে কিছু জানা না গেলেও ইতিহাসের পাতা ঘেঁটে যে তথ্য পাওয়া যায় তা হল, ভারতের দ্রাবিড়ীয় সভ্যতায় মাতৃ দেবীর পূজার প্রচলন ছিল।। সিন্ধু সভ্যতায় দেবীমাতার, তিনমাথা যুক্ত দেবতা, পশুপতি শিবের পূজার প্রচলন ছিল বলেও জানা যায়। মার্কন্ডেয় পুরাণ বা শ্রী শ্রী চণ্ডী পুরাণ মতে বলিপুরের রাজা, যা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় শান্তিনিকেন বোলপুর, সেখানকার রাজা সুরথ প্রথম দুর্গাপুজো করেন। তিনি মা দুর্গার মহিষাসুরমর্দ্দিনি রূপকে পুজো করেন। এই রূপেই দেবী দুর্গা বঙ্গে অধিক পূজিতা হন। তবে জানেন কি বাংলায় সর্বপ্রথম ব্যয়বহুল দুর্গা পূজা কে করেছিলেন? আজ জানাব সেই তথ্য।
ঐতিহাসিকদের সর্বশেষ গ্রহণযোগ্য মতামত হল,ভারত উপমহাদেশে আধুনিক ও সর্বজনীন শারদীয় দুর্গাপূজার সূচনা স্থল হলো বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার তাহেরপুর। ইতিহাস ও লোক বিশ্বাস অনুসারে, ১৪৮০ খ্রিস্টাব্দে তাহেরপুর রাজবংশের রাজা কংস নারায়ণ রায় প্রথম এই অঞ্চলের বারনই নদীর পূর্ব তীরে রামরামা গ্রামে বিশাল আয়োজনে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রবর্তন করেন। রাজা কংস নারায়ন ছিলেন মনুসংহিতার টীকাকার কুল্লুক ভট্টের পুত্র। একবার রাজা কংস নারায়ণ একটি মহৎ যজ্ঞ করতে চেয়েছিলেন। তাঁর রাজপুরোহিত রমেশ শাস্ত্রীর পরামর্শে তিনি অশ্বমেধ বা রাজসূয় যজ্ঞের পরিবর্তে শরতকালে মহাপূজা বা দুর্গোৎসবের আয়োজন করার কথা বলেন। সেই মতে দুর্গাপূজার রীতি-মন্ত্র ও সামগ্রিক নির্মাণ করেন কংসনারায়ণের কুল পুরোহিত রমেশ শাস্ত্রী। মিথিলার প্রসিদ্ধ পন্ডিত বাচস্পতি তাঁর গ্রন্থে দুর্গা প্রতিমার পূজা পদ্ধতির সবিস্তার বর্ননা দিয়েছেন। কথিত আছে, মহাবীর রাম চন্দ্রের পর তিনিই মর্তে প্রথম এই পূজার সূচনা করেন।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, তৎকালীন সময়ে প্রায় ৯ লাখ টাকা ব্যয় করে রাজবাড়ি সংলগ্ন গোবিন্দ মন্দিরে এই পূজার আয়োজন করা হয়েছিল,যা সেই যুগের হিসেবে একটি অবিশ্বাস্য অংক। ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায়, রাজা কংস নারায়ণের প্রথম পূজায় দেবী দুর্গা ও সমস্ত প্রতিমার সব অলঙ্কার ও সাজসজ্জা করা হয়েছিল খাঁটি সোনা, হিরে এবং মণি-মুক্তা দিয়ে। পূজার দিনগুলোতে একটানা ১০৮টি ঢাক বাজানো হতো এবং যতদূর পর্যন্ত সেই ঢাকের আওয়াজ পৌঁছাত, ততদূর পর্যন্ত সাধারণ প্রজাদের বাড়িতে রান্না করা নিষিদ্ধ ছিল; সবার খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল রাজবাড়িতেই।
সে যুগে রাজা কংস নারায়ণ প্রায় ৯ লাখ টাকা ব্যয় করে এই দুর্গাপূজার আয়োজন করেছিলেন, যা তৎকালীন সময়ে এক অবিশ্বাস্য অঙ্ক ছিল। এর পর থেকেই মূলত বাংলায় পারিবারিক ও সামাজিক ভাবে দুর্গোৎসবের জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে।