Calcutta Television Network

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে কি শায়িত আছে কোনও রহস্যময় শহর?

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে কি শায়িত আছে কোনও রহস্যময় শহর?

11 September 2026 , 04:05:56 pm

বারমুডা ট্রায়াঙ্গল নিয়ে মানুষের কৌতূহল বহু প্রাচীন। বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী পৃথিবীতে যা কেবল বৃদ্ধিই পেয়েছে সময় সময়। উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের এই সামুদ্রিক অঞ্চলকে ঘিরে হারিয়ে যাওয়া জাহাজ, নিখোঁজ বিমান এবং নানা অস্বাভাবিক ঘটনার গল্প লোকমুখে ছড়িয়ে রয়েছে। এর অনেকটাই অবশ্য লোককথা ও কল্পনার সঙ্গে মিলেমিশে পৌঁছেছে নানান কাল্পনিক উপমায়। তবে, এবার সেই রহস্যের তালিকায় যুক্ত হল আরও একটি ভিন্ন দাবি। বারমুডার আশপাশের সমুদ্রের নীচে নাকি চাপা রয়েছে বহু প্রাচীন একটি শহরের ধ্বংসাবশেষ।

স্বঘোষিত ইউএফও গবেষক স্কট সি ওয়ারিং এই দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও প্রত্নতত্ত্ববিদ বা সমুদ্রবিজ্ঞানী তাঁর এই বক্তব্যকে বৈজ্ঞানিক ভাবে সমর্থন দেননি। ফলে বিষয়টি আপাতত তাঁর ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ এবং ব্যাখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ওয়ারিংয়ের দাবি, সমুদ্রের তলদেশের একটি অনলাইন মানচিত্র খতিয়ে দেখতে গিয়ে তিনি অদ্ভুত কিছু রেখার সমাবেশ লক্ষ্য করেন। গোটা বিশ্বজুড়েই সমুদ্রতলের বিস্তারিত মানচিত্র নির্মাণের কাজ চলছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সেই কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। সেই মানচিত্রের ছবিতেই বারমুডার কাছাকাছি কয়েকটি অস্পষ্ট রেখা তাঁর পর্যবেক্ষণে আসে। ওয়ারিংয়ের মতে, রেখাগুলি পরস্পরের সঙ্গে এমন ভাবে যুক্ত যে সেগুলি শুধুমাত্র প্রাকৃতিক গঠনের ফলে তৈরী হয়েছে, বলে আদৌ মনে হচ্ছে না। কোথাও কোথাও সেগুলি প্রায় সমান্তরাল, আবার কিছু অংশ ছেদ করেছে একে অপরকে। এই নকশার পিছনে মানুষের বুদ্ধি ও পরিকল্পনা থাকতে পারে বলেও তাঁর অনুমান, অর্থাৎ সমুদ্রের তলায় কোনও এক সময় মানুষের তৈরি কাঠামোর অস্তিত্ব ছিল বলেই তিনি ধারণা করছেন। একটি ইউটিউব ভিডিয়োয় নিজের পর্যবেক্ষণের কথা বলতে গিয়ে ওয়ারিং আরও কয়েকটি সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর প্রশ্ন, এই স্থাপত্য যদি সত্যিই কোনও আদিম নগরীর অংশ হয়, তা হলে সেটি নির্মাণ করেছিল কারা? প্রাচীন কোনো সভ্যতার মানুষ, নাকি ভিনগ্রহ থেকে আসা প্রাণী? যদিও শেষ পর্যন্ত তাঁর নিজের ব্যাখ্যা, এর সঙ্গে মানুষেরই যোগ থাকার সম্ভাবনা বেশি। তবে এখানেই রয়েছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। সমুদ্রের নীচে দেখা ওই রেখাগুলি আদৌ কোনও শহরের চিহ্ন কি না, তার কোনও স্বাধীন প্রমাণ আজ অবধি মেলেনি। এমনকি এমন সম্ভাবনাও রয়েছে যে, এগুলি আদতে প্রাকৃতিক ভাবে তৈরি কোনও ভূতাত্ত্বিক গঠন। তাই শুধু মানচিত্রের কিছু অস্পষ্ট রেখার ভিত্তিতে সেখানে প্রাচীন সভ্যতা ছিল বলে একপ্রকার নিশ্চিত হওয়া কখনোই সম্ভব নয়। তবু ওয়ারিংয়ের দাবি অনুযায়ী, যদি সত্যিই সেখানে কোনও বসতির অস্তিত্ব থেকে থাকে, তা হলে সেটি অত্যন্ত প্রাচীন হওয়াই স্বাভাবিক। তাঁর ধারণা, শহরটি আটলান্টিসের সমসাময়িকও হতে পারে। কী ভাবে তার অস্তিত্ব মুছে গেল, তারও একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন ওয়ারিং।

তাঁর অনুমান, ভয়াবহ ভূমিকম্পের কারণে ওই এলাকার ভূখণ্ড ভেঙে সমুদ্রের নীচে তলিয়ে গিয়ে থাকতে পারে। তার সঙ্গে ধসে গিয়ে থাকতে পারে প্রবালপ্রাচীরের উপর তৈরি বিভিন্ন স্থাপনা। ফলে কোনো এক সময়ের আদিম জনবসতিপূর্ণ এলাকা পুরোপুরি জলের তলায় তলিয়ে যায়। বহু বছর পরে হয়তো তার সামান্য কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক চিহ্নই সমুদ্রতলের মানচিত্রে ধরা পড়েছে। তবে সত্যিই সেখানে কোনও প্রাচীন শহরের অস্তিত্ব রয়েছে কি না, তা জানতে প্রয়োজন আরও গভীর অনুসন্ধান এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা। সেই প্রমাণ হাতেনাতে না পাওয়া পর্যন্ত বারমুডার কাছে হারিয়ে যাওয়া শহরের গল্প রহস্য হিসেবেই থেকে যাবে।

0 0 0

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে সমর্থন করেন?

Note:"আপনার তথ্যের গোপনীয়তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি বিশ্লেষণধর্মী কথোপকথন এবং এখানে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ বা প্রকাশ করা হবে না"
×
  • CTVN