Calcutta Television Network

জুকারবার্গ থেকে বিরুষ্কা, কেন ছুটে যান কাইঞ্চি ধামে? আশ্রমের মাহাত্ম্য জানলে অবাক হবেন

জুকারবার্গ থেকে বিরুষ্কা, কেন ছুটে যান কাইঞ্চি ধামে? আশ্রমের মাহাত্ম্য জানলে অবাক হবেন

11 September 2026 , 12:25:28 pm

উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি সৌন্দর্যের মধ্যে লুকিয়ে থাকা ছোট্ট গ্রাম কাইঞ্চি। আছে ঈশ্বরের ধামও। যা এখন শুধু ধর্মপ্রাণ মানুষের গন্তব্য নয়, আধ্যাত্মিকতাবাদের পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও ক্রমশ আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠছে এই স্থান। বিশেষ করে নিম করোলি বাবাকে ঘিরে তৈরি হওয়া নানা কাহিনী এবং তাঁর জীবন নিয়ে তৈরি সাম্প্রতিক হিন্দি ছবি ‘হনুমান অংশ’ মুক্তির পর কাইঞ্চি ধাম নিয়ে জনমানসে আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। নৈনিতাল থেকে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটা ছোট্ট আশ্রম। পাহাড়ি পথে গাড়িতে পৌঁছতে সাধারণত সময় লাগে ৪৫ মিনিটের মতো। শান্ত পরিবেশ, চারপাশের পাহাড় এবং মন্দিরের আবহ, সবটুকু মিলিয়ে জায়গাটি ভক্ত ও পর্যটকদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে ইদানিং। এখানকার মূল উপাস্য দেবতা হনুমান। কথিত আছে, ১৯৬৮ সালে নিম করোলি বাবার উদ্যোগেই প্রথম তৈরি হয়েছিল এই মন্দির। ‘কাইঞ্চি’ নামটি নিয়েও একটি প্রচলিত ব্যাখ্যা বিদ্যমান। স্থানীয় ধারণা অনুযায়ী, আশপাশের দুটি পাহাড় এমনভাবে একে অপরকে অতিক্রম করেছে যে দূর থেকে দেখতে লাগে খানিক কাঁচির মতো। সেই থেকেই জায়গাটির নাম কাইঞ্চি ধাম হয়েছে বলে অনুমান করা হয়।

নিম করোলি তাঁর ভক্তদের কাছে ‘মহারাজ-জি’ নামেই বেশি পরিচিত। তবে তাঁর আসল নাম লক্ষ্মণ নারায়ণ শর্মা। উত্তরপ্রদেশে জন্ম নেওয়া এই সাধক পরবর্তী সময়ে সংসারজীবন থেকে সরে গিয়ে আধ্যাত্মিক সাধনায় মগ্ন হন। হনুমানের প্রতি তাঁর গভীর ভক্তিই তাঁর সাধনা ও কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান ভিত্তি ছিল। বাবার শিক্ষা ছিল সহজ এবং সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত। মানুষের পাশে দাঁড়ানো, একে অপরকে ভালোবাসা এবং ঈশ্বরকে স্মরণ করা, এই কয়েকটি বিষয়কেই তিনি মূলত গুরুত্ব দিতেন। বড় বড় বক্তৃতার পরিবর্তে নিজের জীবনযাপন এবং আচরণের মাধ্যমেই তিনি অনুসারীদের কাছে তাঁর ভাবনাকে তুলে ধরার প্রয়াস করতেন। তাঁকে ঘিরে অবশ্য প্রচলিত রয়েছে বহু অলৌকিক কাহিনীও। তার মধ্যে অন্যতম রেলগাড়ির গল্প। লোককথা অনুযায়ী, একবার তাঁকে গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়, শোনা যায় তারপর ট্রেনটি নাকি আর চালুই হচ্ছিলো না। পরে তাঁকে ফের ট্রেনে ওঠার অনুরোধ করা হলে তখন নাকি সেটি আবার ধীরে ধীরে চলতে শুরু করে। এই ধরনের গল্পের সত্যতা যাচাই করা কঠিন হলেও ভক্তদের বিশ্বাসে এগুলির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। পশ্চিমে নিম করোলি বাবার পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ার পিছনে রামদাসের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

মার্কিন নাগরিক রিচার্ড অ্যালপার্ট তাঁর সংস্পর্শে এসে রামদাস নামটি গ্রহণ করেন। পরে তাঁর লেখা ‘Be Here Now’ বইটি পশ্চিমা দুনিয়ায় ভারতীয় আধ্যাত্মিকতা এবং নিম করোলি বাবার ভাবধারার পরিচিতি ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। বিশ্বের প্রযুক্তি জগতের দুই পরিচিত নাম স্টিভ জোবস এবং মার্ক জাকারবার্গও জড়িয়ে রয়েছেন কাইঞ্চি ধামের সঙ্গে। ১৯৭৪ সালে ভারতে আসেন স্টিভ জোবস। তখন তিনি এই আশ্রমে গিয়েছিলেন বলে শোনা যায়। ২০১৫ সালে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথোপকথনে জুকারবার্গ জানিয়েছিলেন, জোবসের পরামর্শেই তিনি নাকি কাইঞ্চি ধামে এসেছিলেন। বিরাট কোহলি ও অনুষ্কা শর্মারও এই আশ্রমে আসার খবর বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও তাঁদের সফর নিয়ে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের সত্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন রয়েছে। তবে সব মিলিয়ে ধর্মীয় বিশ্বাস, প্রকৃতি এবং নিম করোলি বাবাকে ঘিরে থাকা নানা গল্পের কারণে কাইঞ্চি ধামের আকর্ষণ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সাফল্যের সন্ধানের পাশাপাশি নিরিবিলি পাহাড়ের পরিবেশে কিছুটা মানসিক স্বস্তি খুঁজতেও বহু মানুষ এখন এই তীর্থে প্রতিদিন ছুটে যাচ্ছেন।

0 0 0

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে সমর্থন করেন?

Note:"আপনার তথ্যের গোপনীয়তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি বিশ্লেষণধর্মী কথোপকথন এবং এখানে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ বা প্রকাশ করা হবে না"
×
  • CTVN