পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী,কোন এক সময় দেবী তুলসী গণেশের ঈশ্বরের প্রতি অগাধ ভক্তি ও গঙ্গা তীরে নির্জনে বিষ্ণুর প্রতি ধ্যানে নিমগ্ন থাকার দৃশ্যে তুলসী খুব অনুপ্রাণিত হন। তুলসী গণেশকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে শ্রী গণেশ তা প্রত্যাখ্যান করেন। এই ঘটনায় তুলসী ভীষণ লজ্জিত,অপমানিত ও ক্ষুব্ধ হন। সে কারণে তুলসী গণেশকে অভিশাপ দেন যে,গণেশের বিয়েতে চরম বিভ্রান্তি দেখা দেবে। অবশেষে গণেশের দুজন স্ত্রী হবেন। সেই অভিশাপ মত ভগবান গণেশের দুই স্ত্রী,তারা হলেন ঋদ্ধি ও সিদ্ধি। কিন্তু জানেন কি গণেশের বিবাহ নিয়ে কি বিভ্রান্তিকর ঘটনা ঘটেছিল? আজ জানাব সেই তথ্য।
গণেশের হস্তিমুখ ও স্থূল শরীরের কারণে সহজে কেউ তাঁকে বিবাহ করতে রাজি হচ্ছিলেন না। অন্যদিকে তাঁর ভাই কার্তিকেয়র বিবাহ হয়ে যাওয়ার পর গণেশও বিবাহ করার জন্য উতালা হয়ে ওঠেন। কিন্তু শত চেষ্টা করেও নিজের বিয়ে না হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে অন্যান্য দেবদেবীর বিবাহে নানা ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে শুরু করেন।
গণেশের এই আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে দেবতারা ব্রহ্মার শরণাপন্ন হন। তখন ব্রহ্মা তাঁর মানস কন্যা ঋদ্ধি ও সিদ্ধিকে গণেশের কাছে পাঠান। তাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয় গণেশকে শিক্ষা ও জ্ঞান দানে সহায়তা করে ভুল পথে চালনা করা। সেই কারণে কারোর বিবাহের কথা এলে গণেশের মন অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হত।
ঋদ্ধি ও সিদ্ধি দেবীর সহায়তায় সমস্ত দেবতারা নির্বিঘ্নে বিবাহ সম্পন্ন করতে সক্ষম হন। কিন্তু পরে গণেশ বিষয়টি বুঝতে পেরে ক্ষুব্ধ হন। তখন প্রজাপতি ব্রহ্মা সকল দেবতাদের কথা মনে রেখে নিজের স্বার্থ ত্যাগ করেন। নিজের উদ্যোগে গণেশের সঙ্গে তাঁর দুই কন্যা ঋদ্ধি ও সিদ্ধির বিবাহ প্রস্তাব দেন এবং দেবাদিদেব শিব ও দেবী পার্বতীর সম্মতিতে এই বিবাহ সম্পন্ন হয়।
পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবতাদের আশির্বাদে গণেশের এই বিয়ে ছিল অত্যন্ত সুখের। রিদ্ধি দেবী হলেন ধন-সম্পদ ও সমৃদ্ধির প্রতীক এবং সিদ্ধি দেবী হলেন আধ্যাত্মিক শক্তি ও সফলতার প্রতীক ।গণেশ এবং রিদ্ধি-সিদ্ধির সংসারে শুভ ও লাভ নামে দুই পুত্র সন্তানেরও জন্ম হয়, কিছু পুরাণে তাদের ক্ষেম ও লাভ বলা হয়েছে। এছাড়া তাঁদের সন্তোষী নামে একটি কন্যা সন্তানও ছিল।