হিন্দু ধর্মের শাস্ত্র অনুযায়ী সমস্ত দেব দেবীর পূজায় তুলসী পাতা ব্যবহৃত হলেও গণেশ পূজায় এর ব্যতিক্রম লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু কেন এমন ঘটনা ? পৌরাণিক ব্যাখ্যাই বা কী? আজ জানাব সেই তথ্য।
পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, তুলসী দেবী পূর্বজন্মে গোলক ধামে শ্রী বিষ্ণুর প্রিয় সখী প্রিয়া বা বৃন্দা নামে পরিচিত ছিলেন। শ্রী বিষ্ণুর সাথে অতি ঘনিষ্ঠতার কারণে লক্ষ্মীর অভিশাপে তাঁকে মর্ত্যে মানবী রূপে জন্মগ্রহণ করতে হয়। অনেকে তুলসী দেবীকে দেবী লক্ষ্মীর অবতার এবং ভগবান বিষ্ণুর সহধর্মিনী বা প্রিয়া হিসেবে গণ্য করে থাকেন।
ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ অনুযায়ী, বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তুলসী দেবী গণেশকে অভিশাপ দিয়েছিলেন। একসময় তুলসী দেবী গঙ্গার তীরে তপস্যা করার সময় ভগবান গণেশকে দেখতে পান। গণেশের তপস্যা ও ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি এবং তার রূপ সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়ে তুলসী তাঁকে বিবাহের প্রস্তাব দেন। গণেশ আজীবন ব্রহ্মচারী থাকতে চেয়েছিলেন এবং শ্রী বিষ্ণুর ধ্যানে মগ্ন ছিলেন। তাই তিনি তুলসীর সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। নিজের প্রস্তাবে প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় তুলসী অপমানিত ও রাগান্বিত হন। তিনি তখন গণেশকে অভিশাপ দেন যে, গণেশের যেন ব্রহ্মচার্য নষ্ট হয় এবং আজীবন ব্রহ্মচারী থাকতে না পারেন। প্রবল চাপের কাছে নতি স্বীকার করে যেন বাধ্য হন বিবাহ করতে। শুধু তাই নয় তাঁর যেন একটি নয়, দুটি বিবাহ হয়। প্রসঙ্গত তুলসীর অভিশাপের কারণে গণেশের বিয়েতে অনেক বাধার সৃষ্টি হয়। পৌরাণিক তথ্য অনুযায়ী, গণেশের হস্তিমুখ ও ভিন্ন শারীরিক গঠনের কারণে কেউ তাঁকে বিয়ে করতে রাজি হচ্ছিল না। এর ফলে ক্রুদ্ধ হয়ে গণেশ অন্য দেবতাদের বিবাহেও নানা রকম বাধা সৃষ্টি করতে শুরু করেন। বাধ্য হয়ে সকল দেবতারা প্রজাপতি ব্রহ্মাকে অনুরোধ করে তাঁর দুই রূপবতী কন্যা রিদ্ধি ও সিদ্ধির সাথে বিবাহ দেন।
তুলসীর মুখে এমন অভিশাপ শুনে গণেশও অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। তিনি পাল্টা তুলসীকে অভিশাপ দেন যে, তুলসীর বিবাহ হবে এক অসুরের সঙ্গে এবং তিনি মর্ত্যে একটি গাছ(তুলসী গাছ) রূপে জন্ম নেবেন। গণেশ এখানেই থামলেন না,মিথ্যা কথা বলায় কলি যুগে মর্তে কুকুর তুলসীর উপর প্রস্রাব করবে। প্রসঙ্গত হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, গণেশের অভিশাপে দেবী তুলসীর শঙ্খচূড় বা মতান্তরে জলন্ধর নামে এক অসুরের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল। ত্রেতাযুগে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য মা সীতা অভিশাপ দিয়েছিল কলিযুগে কুকুর তুলসীর উপর প্রস্রাব করবে।
এই পারস্পরিক অভিশাপের ঘটনার কারণেই আজও হিন্দুধর্মে ভগবান গণেশের পূজায় তুলসী পাতা নিবেদন করা নিষিদ্ধ বা বর্জনীয় বলে শাস্ত্রে বিধান দেওয়া আছে।