Calcutta Television Network

কার অভিশাপে, কেন ব্রহ্মার পুজো হয় না?

কার অভিশাপে, কেন ব্রহ্মার পুজো হয় না?

9 September 2026 , 03:59:39 pm

হিন্দু সনাতন ধর্মের শাস্ত্র ও পুরাণ অনুযায়ী সমস্ত দেব দেবীদের পূজা হয়। একমাত্র ভগবান ব্রহ্মাকে পূজা করা হয় না, কিন্তু জানেন কি কেন ভগবান ব্রহ্মার পূজা হয় না?  কার অভিশাপে ব্রহ্মার পূজা বন্ধ হয়? আজ জানাব সেই তথ্য। ভগবান ব্রহ্মার পূজা না হওয়ার পেছনে প্রধানত দুটি পৌরাণিক কাহিনি প্রচলিত রয়েছে। এর মধ্যে একটি ভগবান শিবের দেওয়া অভিশাপ এবং অন্যটি তাঁর স্ত্রী সাবিত্রীর দেওয়া অভিশাপ।

শিবের অভিশাপঃ

একবার তিন দেবতা ব্রহ্মা , বিষ্ণুর ও মহেশ্বর অর্থাৎ শিবের মধ্যে বিতর্ক শুরু হয় যে,তাঁদের মধ্যে  শ্রেষ্ঠ কে।  এই তর্কের মীমাংসা না হওয়ায়,  ভগবান শিব ব্রহ্মা ও বিষ্ণুর সততা পরীক্ষার জন্য একটি উপায় বার করলেন। দেবাদিদেব মহাদেব এক বিশাল,অনন্ত আলোর স্তম্ভ বা জ্যোতির্লিঙ্গের আবির্ভাব করলেন। তিনি ব্রহ্মা ও বিষ্ণুকে বলেন, যিনি এই আলোর স্তম্ভের আদি (শুরু) বা অন্ত (শেষ) খুঁজে পাবেন, তিনিই হবেন শ্রেষ্ঠ দেবতা।ভগবান বিষ্ণু বরাহ অবতার ধারণ করে স্তম্ভের নিচের দিকে শুরু খুঁজতে যান। কিন্তু এর কোনো আদি অন্ত না পেয়ে তিনি ফিরে আসেন এবং বিনম্রভাবে স্বীকার করেন যে তিনি আদি খুঁজে পাননি।

এই কথা শুনে ব্রহ্মা হংস  রূপ ধারণ করে ওপরের দিকে শেষ খুঁজতে উড়ে যান। তিনিও কোনো শেষ খুঁজে পাননি, কিন্তু নিজেকে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার জন্য তিনি একটি মিথ্যা পরিকল্পনা করেন। স্বর্গের থেকে পড়ে যাওয়া একটি কেতকী ফুলকে তিনি প্রলোভন দেখান ও বলেন ফুলটি যেন শিবের কাছে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় যে ব্রহ্মা আলোকস্তম্ভের শেষ সীমানা খুঁজে পেয়েছেন।

ব্রহ্মা ফিরে এসে শিবের কাছে দাবি করেন যে তিনি জ্য়োতির্লিঙ্গের শেষ প্রান্ত দেখে এসেছেন এবং কেতকী ফুলও তাঁর পক্ষে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়। শিব ব্রহ্মার এই মিথ্যাচারে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। তিনি ব্রহ্মাকে মহাকালের অনন্ত রূপ দর্শন করান এবং অভিশাপ দেন যে, মর্ত্যলোকে কখনোই ব্রহ্মার কোনো পুজো হবে না। মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য কেতকী ফুলকেও শিবের পুজোয় নিষিদ্ধ করা হয়। তার পর থেকে ধরাধামে ব্রহ্মার কোন পূজা হয় না।

দেবী সাবিত্রীর অভিশাপঃ

অন্য একটি কাহিনি অনুসারে, ব্রহ্মা পৃথিবীতে সৃষ্টির যজ্ঞ করার জন্য রাজস্থানের পুষ্কর নামক স্থানটি বেছে নিয়েছিলেন। যজ্ঞ শুরু করার জন্য ব্রহ্মার সাথে তাঁর স্ত্রী সাবিত্রীর মতান্তরে সরস্বতীর উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু সাবিত্রী পোশাক পরিবর্তন করে  প্রস্তুত হতে দেরি করে ফেলেন  এবং যত্রস্থলে ঠিক সময়ে পৌঁছাতে ব্যর্থ হন। এদিকে যজ্ঞের শুভ মুহূর্ত পার হয়ে যাচ্ছিল, যথা সময়ে যজ্ঞ সম্পন্ন করার জন্য ব্রহ্মা ইন্দ্রের সাহায্যে গায়ত্রী নামের এক গুজ্জর কন্যাকে বিয়ে করেন এবং যজ্ঞ সম্পন্ন করেন। সাবিত্রী যখন যজ্ঞস্থলে পৌঁছে গায়ত্রীকে ব্রহ্মার পাশে বসা দেখেন, তখন তিনি চরম অপমানিত ও ক্ষুব্ধ হন। তিনি ব্রহ্মাকে অভিশাপ দেন যে, সমগ্র পৃথিবীতে পুষ্কর ছাড়া আর কোথাও ব্রহ্মার পুজো করা হবে না। তখন থেকে ব্রহ্মার পূজা বন্ধ থাকে।

0 0 0

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে সমর্থন করেন?

Note:"আপনার তথ্যের গোপনীয়তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি বিশ্লেষণধর্মী কথোপকথন এবং এখানে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ বা প্রকাশ করা হবে না"
×
  • CTVN