Calcutta Television Network

কেন খুন হতে হয়েছিল কৌটিল্যকে? চাণক্যের মৃত্যুরহস্য

কেন খুন হতে হয়েছিল কৌটিল্যকে? চাণক্যের মৃত্যুরহস্য

9 September 2026 , 02:49:16 pm

এই তো কিছুবছর আগের কথা। সদ্য ফ্রি হয়েছে নেট। জলের দরে ডেটা পাচ্ছে ভূ-ভারত। সকাল-বিকেল হোয়াটস্যাপ আর বেনামে উক্তি দিব্যি ফরওয়ার্ড হচ্ছে। তখন প্রায়শই একটা নাম ভুল ঠিক পংক্তি সহযোগে দিব্যি ভেসে উঠতো ডিজিটাল স্ক্রিনে। চাণক্য!

ইতিহাসের পাতা উল্টে কেটে গিয়েছে বহু শতাব্দী। তবু ভারতীয় ইতিহাসে চাণক্যের নাম আজও সমানভাবে আলোচিত ও তেমনই গুরুত্বপূর্ণ। বিষ্ণুগুপ্ত, কৌটিল্য এবং চাণক্য, পরিচিতি তিন নামেই। প্রাচীন ভারতের এই চিন্তাবিদ রাজনীতি, অর্থনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে বিবিধ গুরুত্বপূর্ণ মতামত রেখে গিয়েছেন। তবে তাঁর জীবনের শেষ অধ্যায় ঘিরে রয়েছে একাধিক অলৌকিক কাহিনি। সবচেয়ে বেশি প্রচলিত যেটি, তাহল, আগুনে পুড়ে মৃত্যু!  অনেকেই মনে করেন এই প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের মৃত্যু দগ্ধ হয়ে অত্যন্ত মর্মান্তিক ভাবে। 

শৈশব থেকেই চাণক্য ছিলেন প্রভূত মেধাবী ছাত্র। তক্ষশীলায় পড়াশোনা শেষ করার পর সেখানেই শিক্ষকতা শুরু। কিন্তু শিক্ষকতার গণ্ডিতে তাঁর জীবন আটকে থাকেনি। পরবর্তীতে রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন চাণক্য। তাঁর জীবনে বড় পরিবর্তন আসে মগধের রাজা ধননন্দের সভায়  গমণের পর। ধননন্দের সঙ্গে চাণক্যের বিরোধের কারণ নিয়ে অবশ্য ইতিহাসে একাধিক মত রয়েছে। কোনও কোনও কাহিনিতে বলা হয়, তাঁর চেহারা নিয়ে রাজা বিদ্রূপ করেছিলেন। আবার ‘মুদ্রারাক্ষস’-এ ভিন্ন ধরনের ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়। সেখানে বলা হয়েছে, রাজসভার সঙ্গে যুক্ত থাকাকালীন চাণক্যকে অপমান করে সেখান থেকে বহিস্কার করে দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনার পরেই নন্দবংশকে ক্ষমতাচ্যুত করার দৃঢ় সংকল্প নেন তিনি। এরপর চাণক্যের নজরে আসে এক উজ্জ্বল কিশোর। জঙ্গলের মধ্যে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে খেলছিল একাকী বালক। খেলার মধ্যেই সে নিজেকে রাজার ভূমিকায় প্রদর্শন করছিল। কিশোরটির মধ্যে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা লক্ষ্য করেছিলেন মহামতি চাণক্য। সে-ই বালকের নাম ছিল চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য। পরে তাকে তক্ষশীলায় নিয়ে গিয়ে নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন চাণক্য। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর্ব চলে। তারপর শুরু হয় নন্দদের বিরুদ্ধে মরণপণ লড়াই। শেষ পর্যন্ত ধননন্দকে পরাজিত করে মগধের সিংহাসনে বসেন মহারাজ চন্দ্রগুপ্ত। তবে চন্দ্রগুপ্তের নিরাপত্তা নিয়েও সতর্ক ছিলেন তাঁর গুরু। কথিত আছে, প্রতিদিন স্বল্প পরিমাণে বিষ মিশিয়ে সম্রাটকে খাবার খাওয়াতেন চাণক্য। এর উদ্দেশ্য ছিল ধীরে ধীরে তাঁর শরীরকে বিষ সহ্য করার মতো শক্তিশালী করে তোলা। কিন্তু একদিন সেই পরিকল্পনাই ভয়াবহ বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

শোনা যায়, সেই সময় চন্দ্রগুপ্তের স্ত্রী দুর্ধারা অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। একদিন সম্রাট স্ত্রীর সঙ্গে একই পাত্রে খাবার খান। খাবারে থাকা বিষের প্রভাব পড়ে দুর্ধারার শরীরে। পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত সেখানে পৌঁছে যান চাণক্য। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, তিনি অস্ত্রের সাহায্যে রানির গর্ভ থেকে শিশুকে বের করে আনেন। শিশুটিই পরবর্তীতে বিন্দুসার নামে মৌর্য বংশের সম্রাটের পদে আসীন হন। বহু বছর পর চন্দ্রগুপ্ত রাজকার্য ছেড়ে জৈন ধর্মের পথ অনুসরণ করেন। শোনা যায় শেষ জীবনে উপবাসের মাধ্যমে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এরপর সিংহাসনে বসেন মহারাজা বিন্দুসার। সেই সময় সুবন্ধু নামে এক ব্যক্তি চাণক্যের বিরুদ্ধে সম্রাটের মনে সন্দেহের বীজ বপন করেন। নিজের স্বার্থে চাণক্যকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন সুবন্ধু। অভিমানে চাণক্য রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নেন। কথিত আছে, তিনি নিজেই আগুনের চিতা প্রস্তুত করেছিলেন। তবে শেষ মুহূর্তে বিন্দুসার তাঁকে বাধা দিতে সেখানে পৌঁছে যান। এক বৃদ্ধ দাসীর কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, শৈশবে কীভাবে চাণক্য তাঁর জীবন রক্ষা করেছিলেন। ভুল বুঝতে পেরে সম্রাট চাণক্যের কাছে করোজোড়ে ক্ষমা চান। কিন্তু ততক্ষণে পরিস্থিতি বদলে গিয়েছিল। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, সুবন্ধুর ষড়যন্ত্রে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং সেই আগুনেই প্রাণ হারান মহামতি চাণক্য। যদিও তাঁর মৃত্যুর বিষয়ে অন্য মতও রয়েছে। আরেকটি মত অনুযায়ী, চন্দ্রগুপ্তের মতো চাণক্যও উপবাসের মাধ্যমেই জীবনের অবসান ঘটিয়েছিলেন। তাই চাণক্যের মৃত্যু আজও ইতিহাস ও কিংবদন্তির মাঝামাঝি এক গুর রহস্য হয়ে গাঁথা রয়েছে। নিশ্চিত তথ্যের অভাবে তাঁর শেষ দিনগুলি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, তাঁর জীবন ও রাজনৈতিক চিন্তা ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে আজও প্রতিনিয়ত গভীর প্রভাব রেখে চলেছে।

0 0 0

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে সমর্থন করেন?

Note:"আপনার তথ্যের গোপনীয়তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি বিশ্লেষণধর্মী কথোপকথন এবং এখানে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ বা প্রকাশ করা হবে না"
×
  • CTVN