সনাতন ধর্মের বৈদিক পুরাণে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কুবের তাঁর অদ্ভুত দর্শনের শারীরিক গঠন নিয়ে মোটেই সন্তুষ্ট ছিলেন না। অন্য দেবতারা তাঁকে ক্রমাগত ঠাট্টা-মস্করা, অপমান ও অসম্মান করতেন। কুবের দেব সবসময় হীনমন্যতায় ভুগতেন। তাই তিনি দেব সমাজে সম্মান প্রতিপত্তি ও স্বীকৃতি পেতে শিবের অত্যন্ত কঠোর তপস্যা শুরু করেন। তাঁর তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে ভগবান শিব তাঁকে দর্শন দেন। ভক্তের আবদার মেনে শিব তাঁকে ধন সম্পদের অধীশ্বর এবং দেবতাদের কোষাধ্যক্ষ হওয়ার বরদান দেন। শিবের কৃপায় তিনি উপদেবতা 'যক্ষ'-দের রাজত্ব লাভ করেন। যক্ষরা পৃথিবীর গোপন ধন সম্পদ রক্ষা করে, আর কুবের তাদের প্রধান হিসেবে সমগ্র বিশ্বের ধনের রক্ষা কর্তা বা 'লোকপাল' পদমর্যাদার স্থান পান।
শিবের কৃপায় কুবের নিজের ঐশ্বর্য ও ধন সম্পদের অহংকারে অন্ধ হয়ে একবার এক বিশাল দেব ভোজের আয়োজন করেন, যার উদ্দেশ্য ছিল দেবতাদের সামনে নিজের প্রাচুর্যের আভিজাত্য দেখানো। নিজের ক্ষমতা ও ধন সম্পদ সকলের সামনে জাহির করার জন্য কুবের দেবাদিদেব মহাদেব ও মা পার্বতীকেও এই বিশাল ভোজ সভায় আমন্ত্রণ জানালেন। দেবাদিদেব মহাদেব কুবেরের মনের অহংকার বুঝতে পেরে নিজে না গিয়ে তাঁদের পুত্র ছোট গণেশকে সেই ভোজ সভায় পাঠিয়ে দেন।
এই ভোজন সভায় শিশু গণেশ উপস্থিত হয়ে শিবের নির্দেশে খাবার খেতে শুরু করলেন। এত বেশি পরিমানে খাবার খান যে কুবেরের সমস্ত খাবারের ভাণ্ডার শেষ হয়ে যায়, তাতেও গণেশের খিদে মিটছে না। শেষে কুবেরের রাজপ্রাসাদ ও অবশেষে কুবেরকেও সে গ্রাস করতে উদ্যত হন। তখন কুবের বুঝতে পারেন যে এটা তাঁর অহংকার দেখানোর ফল। উপায় না দেখে কুবের দেবাদিদেব মহাদেবের শরণাপন্ন হলেন। শিব কুবেরকে অহংকার ত্যাগ করে গণেশের কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন এবং মা পার্বতী এক মুঠো চাল ভাজা বা মুড়ি ভক্তি ভরে গণেশকে নিবেদন করার আদেশ দিলেন।
কুবের এই সামান্য নিবেদন অহংকার ত্যাগ করে অত্যন্ত বিনীতভাবে গণেশকে দিলে তাঁর ক্ষুধা নিবারিত হয়। কুবের বুঝতে পারেন যে ধন-সম্পদের ঔদ্ধত্যের চেয়ে ভক্তি ও নম্রতা অনেক বেশি মূল্যবান।