ঋষি মার্কন্ডেয় ‘মৃত্যুঞ্জয়’ হলেন কিভাবে?
মার্কন্ডেয়কে ‘মৃত্যুঞ্জয়’ (মৃত্যু + জয়) বলা হয় কারণ তিনি স্বয়ং মৃত্যুকে জয় করেছেন এবং সময়ের ঊর্ধ্বে উঠে কালকে থামিয়ে দিয়েছেন । মার্কণ্ডেয় মুনি শিবের বরে অকাল মৃত্যু থেকে রক্ষা পান। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে রোগ-শোক ও অকাল মৃত্যুর হাত থেকে ভক্তদের রক্ষা করতে তিনি মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রের সৃষ্টি করেন।
ঋষি মার্কণ্ডেয় ছিলেন হিন্দু পুরাণের এক অনন্য ও চিরঞ্জীবী চরিত্র। যিনি তাঁর অটল ভক্তি ও বিশ্বাসের জন্য অলৌকিক অমরত্ব লাভ করেছিলেন। মার্কন্ডেয় ছিলেন ভৃগুর বংশধর । নিঃসন্তান এক ঋষি দম্পতি শিবের তপস্যা করলে মহাদেব তাঁদের সামনে উপস্থিত হন। তিনি তাঁদের শর্ত দিয়ে বর দিতে চাইলেন। শর্ত অনুযায়ী তারা স্বল্পায়ু কিন্তু অত্যন্ত জ্ঞানী ও গুণী পুত্র আশা করেন। যার ফল স্বরূপ মাত্র ১৬ বছরের আয়ুষ্কাল নিয়ে মার্কণ্ডেয়র জন্ম হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই মার্কেণ্ডেয় বিভিন্ন শাস্ত্র অধ্যায়ন করে জ্ঞানী ও পন্ডিত হয়ে উঠলেন। মার্কেণ্ডেয় তার স্বল্প আয়ুষ্কালের কথা জানার পর তিনি নদী তীরে শিব লিঙ্গ তৈরি করে গভীর তপস্যায় নিমগ্ন হলেন। বালকের এই শিব ভক্তি দেখে মহদেব খুব খুশী হলেন।
কালক্রমে যখন মার্কণ্ডেয়র বয়স যখন ১৬ বছর পূর্ণ হয়, তখন শিবের শর্ত অনুযায়ী মৃত্যুর দেবতা যমরাজ তাঁর প্রাণ নিতে আসেন। যমরাজকে দেখে মার্কণ্ডেয় শিবলিঙ্গকে জড়িয়ে ধরেন এবং অবিরত শিবের নাম জপ করতে থাকেন। যমরাজ যখন মার্কণ্ডেয়ের প্রাণ হরণ কালে ভুলবশত তার কালপাশ মার্কণ্ডেয়ের সাথে সাথে শিবলিঙ্গকেও জড়িয়ে ফেলে। এতে ভগবান শিব অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হয়ে লিঙ্গ থেকে আবির্ভূত হন। শিব তাঁর ত্রিশূল দিয়ে যমরাজকে আঘাত করেন, কোনো কোনো কাহিনী অনুসারে শিব যমরাজকে বধ করেছিলেন।
ঘটনার পর শিবের কৃপায় মার্কণ্ডেয় চিরঞ্জীবী বা অমরত্ব লাভ করেন। তিনি চিরকাল ১৬ বছর বয়সেই অবস্থান করবেন বলে আশীর্বাদ পান। ঋষি মার্কেণ্ডেয় শিবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে ও শিব ভক্তদের নীরোগ ও দীর্ঘায়ু প্রাপ্তির জন্য মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রের সৃষ্টি করলেন-
ওঁ ত্র্যম্বকং যজামহে সুগন্ধিং পুষ্টিবর্ধনম্। উর্বারুকমিব বন্ধনান্মৃত্যোর্মুক্ষীয় মামৃতাৎ।।