আমরা সবাই জানি সমস্ত দেবতাদের একটি করে বাহন থাকে। সেই হিসাবে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মারও একটি বাহন থাকবে এটা স্বাভাবিক। প্রত্যেক দেবতার বাহনের আড়ালে পৌরাণিক ব্যাখ্য়াও থাকে। কিন্তু জানেন কি, স্বর্গীয় শিল্পী বিশ্বকর্মা বাহন হিসাবে হাতি কোথা থেকে পেলেন? কেন তাঁর বাহন হাতি, আজ জানাব সেই পৌরাণিক কাহিনী।
হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, সমুদ্র মন্থনের সমসয় ১৪টি মূল্যবান দ্রব্যের সঙ্গে একটি সাদা হাতিও উঠেছিল, যার নাম ঐরাবত।ইন্দ্র যাকে বাহন হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন। তবে কিছু কিছু ধর্মীয় ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে,দেবরাজ ইন্দ্রের অধীনে দিগগজদের ( আটটি দিক রক্ষা করার হাতি) একটি পুরো বাহিনী রয়েছে। বিশেষ করে দিকপাল হিসেবে বিচার করলে আটটি দিকের জন্য ৮টি প্রধান হাতি ইন্দ্রের স্বর্গলোকে অবস্থান করে, যার নেতৃত্ব দেয় ঐরাবত। ইন্দ্রের অষ্টদিক বলতে বাড়ির বাস্তুর আটটি দিকের কথা বলা হয়েছে। কোন কোন পণ্ডিতগণ মনে করেন বিশ্বকর্মা যখন ইন্দ্রের রাজসভা বা ইন্দ্রপুরী বাস্তুশাস্ত্র মেনে অত্য়ন্ত দক্ষতার সাথে সুনিপুন ভাবে গড়ে তুলেছিলেন,দেখে দেবরাজ ইন্দ্র খুব খুশী হয়েছিলেন। তখন ইন্দ্র এই মহান শিল্পীর শিল্পসত্ত্বাকে সম্মান জানাতে অষ্টদিগগজের একটি হাতি বিশ্বকর্মাকে দিয়েছিলেন। কিন্তু ব্যক্তিগত বাহন হিসেবে ইন্দ্র কেবল ঐরাবত নামক হাতিটিই ব্যবহার করেন।
পৌরাণিক মতে, ইন্দ্রদেব বিশ্বকর্মাকে তাঁর কাজের নিরিখে মহাবীর ও মহা শক্তিশালী হিসাবে ব্যাখ্যা করেছেন। এই মহান শিল্পী রাজ সিংহাসনে বসার উপযুক্ত । তাই তাঁর বাহন হিসেবে বিশাল শক্তিধর হাতি বা হস্তীকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এর পেছনে পৌরাণিক ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য হলো শক্তি ও ক্ষমতা। পুরাণ ও প্রণাম মন্ত্রে বিশ্বকর্মাকে 'মহাবীর' বলা হয়েছে। তাঁকে বহন করার জন্য সমকক্ষ শক্তিশালী প্রাণী প্রয়োজন, যার প্রতীক হলো হাতি। রাজা মহারাজারা যেমন- হাতির পিঠে চড়ে রাজ্য পরিদর্শন করতেন।