হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী ও ধর্ম শাস্ত্র অনুযায়ী, বিশ্বকর্মা হলেন দেবশিল্প ও স্থাপত্যের ঐশ্বরিক দেবতা। তাঁকে মহাবিশ্বের প্রধান স্থপতি বা প্রথম প্রকৌশলী বা ইঞ্জিনিয়ার বলা হয়। কিন্তু আপনি কি জানেন হিন্দু ধর্মে কত প্রকার বিশ্বকর্মা আছে? তাঁদের কাজই বা কি? আজ জানাব সেইসব তথ্য়।
সনাতন ধর্ম ও শিল্প শাস্ত্র অনুযায়ী, দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা সৃষ্টি ও নির্মাণের সুবিধার্থে নিজের পাঁচটি মুখ থেকে পাঁচজন মানস পুত্রের জন্ম দিয়েছিলেন। এই পাঁচ পুত্রই মূলত বিশ্বকর্মার পাঁচ প্রকার রূপ বা শাখা হিসেবে বিবেচিত হয়, যারা পৃথিবীর সমস্ত সৃষ্টি ও নির্মাণ কাজের আদি পুরুষ। আবার হিন্দু পুরাণ এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক লোকগাথা অনুসারে হিন্দু ধর্মের স্থাপত্য ও কারিগরি দেবতা বিশ্বকর্মার একাধিক সন্তানের উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে বিভিন্ন পুরাণ ও মহাকাব্যে তাঁর সন্তানদের সংখ্যা ও নামের মধ্যে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। মূলত ঋগ্বেদ, স্কন্দ পুরাণ, রামায়ণ এবং ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ, স্কন্দ পুরাণ অনুযায়ী তাঁর ৫ পুত্র সৃষ্টির পাঁচ প্রবর্তক । স্কন্দ পুরাণ ও উত্তর ভারতীয় ঐতিহ্য অনুসারে, বিশ্বকর্মার পাঁচটি বিখ্যাত পুত্রের প্রত্যেকেই এক একটি বিশেষ শিল্প ও কারিগরি বিদ্যার আদি গুরু এবং ঋষি হিসেবে পূজিত হন। বিশ্বকর্মার এই পাঁচ প্রকার রূপ বা মতান্তরে তাঁর পুত্রবত সত্ত্বারা হলেন-
১) মনু, তিনি লোহা ও ইস্পাত শিল্পের জনক। তিনি কামার বা লৌহ শিল্পীদের আদি পুরুষ এবং অস্ত্রশস্ত্র ও ভারী যন্ত্রপাতি নির্মাণের কাজ করে থাকেন।
২) ময়, তিনি কাঠ,স্থাপত্য শিল্প ও বাস্তু শিল্পের জনক। তিনি ছুতোর বা সূত্রধরদের আদি পুরুষ এবং ঘরবাড়ি, প্রাসাদ ও কাঠের আসবাবপত্র একাধিক গৃহসজ্জার জিনিসপত্র তৈরি করেন।
৩) ত্বষ্টা, তিনি তামা,ব্রোঞ্জ, পিতল ও বিভিন্ন শঙ্কর ধাতু শিল্পের জনক ছিলেন । কংসকার বা কাঁসারীদের তিনি আদি পুরুষ এবং বিভিন্ন ধাতব দ্রব্যের রানানর ও খাবারের বাস পাত্র ও বিভিন্ন রকম ঘর গৃহাস্থালীর সরঞ্জাম তৈরি করেন।
৪) শিল্পী, তিনি পাথর ও ভাস্কর্য শিল্পের জনক। তিনি ভাস্কর বা রাজমিস্ত্রীদের আদি পুরুষ এবং মন্দির, দেবমূর্তি ও পাথরের স্থাপত্য নির্মাণ করেন।
৫) দৈবজ্ঞ বা বিশ্বজ্ঞ, তিনি সোনা, রুপা ও গহনা শিল্পের জনক। স্বর্ণকার বা স্যাকরাদের তিনি আদি পুরুষ। তিনি নারী দেহের বিভিন্ন সাজসজ্জার অলঙ্কার ও সূক্ষ্ম কারু শিল্পের কাজ করে থাকেন।