ভারতীয় সনাতন ধর্মের পুরাণের ব্যাখ্যা অনুযায়ী,মহিষাসুর কঠিন তপস্যা করে ব্রহ্মার নিকট থেকে বর লাভ করেছিলেন যে, কোনো পুরুষ বা দেবতা তাঁকে বধ করতে পারবে না। অর্থাৎ, কেবল কোনো নারীর হাতেই তাঁর মৃত্যু হবে। এই বরের অহংকারে তিনি বলীয়ান হয়ে স্বর্গ আক্রমণ করেন এবং দেবতদের স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করে স্বর্গ,মর্ত্য,পাতাল এই ত্রিলোক নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন।
অসুরদের অত্যাচারে স্বর্গের দেবতারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠলেন। দেবতারা ভয় পেয়ে ব্রহ্মার সাহায্য প্রার্থনা করেন। ব্রহ্মার পরামর্শে দেবতারা যুদ্ধে ছোট ছোট অসুরদের পরাজিত করলেও মহিষাসুরকে পরাজিত করতে ব্যর্থ হন। তখন ব্রহ্মা তাঁর বরদানের কথা জানতে পারেন যে, একমাত্র নারী শক্তি এই মহিষাসুরকে পরাস্ত করতে পারবে। তাই ব্রহ্মা,বিষ্ণু ও মহেশ্বর একে একে সৃষ্টি করলেন মহাপরাক্রমশালী নয়টি দেবী মুর্তি,যারা হলেনঃ শৈলপুত্রী, ব্রহ্মচারিণী, চন্দ্রঘণ্টা, কুষ্মান্ডা, স্কন্দমাতা, কাত্যায়নী, কালরাত্রি, মহাগৌরী, সিদ্ধিদাত্রী। এই সমস্ত দেবীরা ছিলেন ভীষণ পরাক্রমশালী ও দারুন শক্তির অধিকারিণী। তা সত্ত্বেও একে একে সব দেবীই মহিষাসুরকে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হলেন। ঘটনার বিবরন শুনে ব্রহ্মা,বিষ্ণু,মহেশ্বর চিন্তিত হয়ে পড়লেন। তখন এই নয়টি দুর্গার সম্মিলিত শক্তির গুনাধারে সৃষ্টি করলেন মা মহামায়া,দেবী দুর্গার। দেবী দুর্গাই বধ করলেন মহিষাসুরকে। এই জন্য়ই দেবী দুর্গার অপর নাম মহিষাসুরমর্দিনী।