ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ ও বামন পুরাণ মতে, স্বর্গের অপ্সরা ঘৃতাচী হলেন বিশ্বকর্মার স্ত্রী। দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা এবং স্বর্গীয় অপ্সরা ঘৃতাচীর বিবাহ বা মিলনের কাহিনিটি মূলত পারস্পরিক অভিশাপের সঙ্গে সম্পর্কিত।
ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের বর্ণনা অনুযায়ী, দেবলোকে একবার বিশ্বকর্মা দেবনর্তকী ঘৃতাচীর রূপ সৌন্দর্য দেখে মোহিত হন। ঘৃতাচী তখন কামদেবের সঙ্গে অভিসারে যাওয়ার জন্য অপূর্ব রূপে সেজে ছিলেন। ঘৃতাচীর অপার রূপে মুগ্ধ হয়ে বিশ্বকর্মা তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। ঘৃতাচী তখন বিয়ের প্রস্তাব নাকচ করেন। বিশ্বকর্মা তবুও বিয়ে করার জোর করতে থাকে,এই ঘটনায় ঘৃতাচী অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন ও বিশ্বকর্মাকে অভিশাপ দেন মর্ত্যে জন্ম নিতে। বিশ্বকর্মাও রাগে ক্ষোভে অপমানিত হয়ে ঘৃতাচীকে মর্ত্যে জন্ম নেওয়ার অভিশাপ দেন।
তাঁদের একে অপরকে অভিশাপ দেওয়ার কারণে, ঘৃতাচীর অভিশাপে বিশ্বকর্মা মর্ত্যলোকে এক সুতর পরিবারে শিল্পী হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন। অন্যদিকে, বিশ্বকর্মার অভিশাপে ঘৃতাচী এক গোপকন্যা হিসাবে গোয়ালা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মর্ত্যধামে মানুষ রূপে জন্ম নেওয়ার পর তাঁদের মধ্যে মিলন ঘটে এবং তাঁরা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করতে শুরু করেন। এই মানব জন্মেই তাঁদের ঔরসে বেশ কিছু কর্মকার বা শিল্পী জাতির জন্ম হয়েছিল বলে পুরাণে উল্লেখ আছে। তাদের পাঁচটি ছেলে ছিল তাদের নাম হল যথাক্রমে- মন্নু, মৃদেব, তবষ্ট, শিল্পী ও দেবগ্যা । বিশ্বকর্মার তিনটি কন্যা সন্তানও ছিল, তারা হল- বার্হিষমতি,সংজ্ঞা ও চিত্রাঙ্গদা। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, দেবতা বিশ্বকর্মার পাঁচটি সন্তান কারিগর হিসাবে দেবতাদের সেবা করত, এবং তাদের কেবল কল্পনা করে জিনিস তৈরি করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল।