ভারতীয় হিন্দু পৌরাণিক উপাখ্যান অনুযায়ী, দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার অতি ক্রোধ ও একজন মুনির অভিশাপের কারণে মর্ত্যে বানর রূপে জন্ম নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। কিন্তু কেন তিনি বাধ্য হলেন বানর রূপে জন্ম নিতে? আজ জানাব সেই তথ্য।
দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা ও অপ্সরা ঘৃতাচীর কন্যা ছিলেন চিত্রাঙ্গদা। চিত্রাঙ্গদা মর্ত্যের সূর্যবংশীয় রাজা সুরথকে ভালোবেসে ফেলেন। দেবতা ও মানুষের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ও বিবাহ বিশ্বকর্মা মেনে নিতে পারেনি,তাই বিশ্বকর্মা তাঁর মেয়েকে বাধা দেন। পিতার নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চিত্রাঙ্গদা পালিয়ে মর্ত্যে এসে রাজা সুরথকে বিয়ে করেন। কন্যার এই জঘন্য আচরণে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা অত্যন্ত ক্রোধিত হয়ে ওঠেন। হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে এবং ক্রোধে অন্ধ হয়ে তপস্যারত ঋষি ঋতধ্বজের আশ্রম বানরের মত আচরণ করে তছনছ করে দিলেন। বিশ্বকর্মার এই কাণ্ডজ্ঞান হীন আচরণ দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে মুনি তাঁকে মর্ত্যে বানর রূপে জন্মগ্রহণ করার অভিশাপ দেন।
বহু বছর পর ঋতধ্বজ মুনির পুত্র জাবালী তাঁর বাল্যকালে হিরণ্বতী নদীতে স্নান করতে গেলে বানররূপী বিশ্বকর্মা তাঁকে বন্দি করে দাস বানিয়ে রাখেন। অবশেষে বন্দি জাবালীর ব্যবহারে খুশী হয়ে বানররূপী বিশ্বকর্মা জাবালিকে বন্ধন মুক্ত করেন। এতে খুশি হয়ে মহর্ষি ঋতধ্বজ তাঁকে বর দিতে চান। তখন বিশ্বকর্মা নিজের আসল পরিচয় জানিয়ে শাপমুক্তির উপায় জানতে চান। ঋষি ঋতধ্বজ তাঁকে বর দেন যে, অপ্সরা ঘৃতাচীর সঙ্গে মিলনের পর একটি সন্তান লাভ করলেই তিনি শাপমুক্ত হবেন।
পরবর্তীকালে ঘৃতাচী যখন সেই বানরের আসল ঐশ্বরিক পরিচয় জানতে পারেন, তখন তিনি বিশ্বকর্মার সঙ্গে সম্পর্কে লিপ্ত হন। তাঁদের এই মিলনের ফলে রামায়ণের বিখ্যাত বানর শিল্পী নল জন্মগ্রহণ করেন, যিনি সমুদ্রের ওপর রাম সেতু নির্মাণ করেছিলেন। সন্তান জন্মের সাথে সাথেই বিশ্বকর্মা শাপমুক্ত হয়ে নিজের দিব্য রূপ ফিরে পান।