মা দুর্গা , যিনি সকল শক্তির উৎস , যিনি আদ্যাশক্তি মহামায়া, সেই মা দুর্গার জন্ম হয়েছিল কিভাবে তা নিয়ে নানা মত রয়েছে। পুরাণে বলছে, মহিষাসুর কঠোর তপস্যা করে ব্রহ্মহার কাছ থেকে অমরত্ব লাভ করেছিলেন এবং ক্রমশ পরাক্রমশালী হয়ে, দেবতাদের পরাজিত করে স্বর্গের অধিকার দখল করে নিয়েছিলেন । যার ফলে দেবতারা স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হয়ে অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়েন। তখন দেবরাজ ইন্দ্র সহ অন্যান্য দেবতারা ব্রহ্মহা, বিষ্ণু ও মহাদেবের কাছে উপস্থিত হন। এবং এই অবস্থা থেকে মুক্তির পথ দেখানোর জন্য অনুরোধ করেন।
এরপর ব্রহ্মহা, বিষ্ণু ও মহাদেব সহ সকল দেবতার দেহ থেকে তেজ ও দিব্যজ্যোতি নির্গত হতে থাকে। এই সমস্ত জ্যোতি একত্রিত হয়ে সৃষ্টি হয় এক অপরূপ মহা শক্তিশালী দেবীমূর্তি। যিনিই দেবী দুর্গা। আবার অন্যদিকে বাংলার প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী মা দুর্গা হলেন গিরিরাজ হিমালয়ের কন্যা উমা। যিনি স্বামী শিবের সঙ্গে কৈলাসে বাস করেন এবং শরৎকালে চার সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়ি আসেন। এই কাহিনী আর মহিষাসুরমর্দিনী রূপে দেবীর আবির্ভাবের কাহিনী দুটি ই দুর্গা উপাসনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আবার হিন্দু শাক্তধর্মে মা দুর্গাকে কেবল জন্মগ্রহণকারী কোনো দেবী হিসাবে দেখা হয় না। তাঁকে মনে করা হয় আদ্যাশক্তি, সৃষ্টির আদি ও চিরন্তন শক্তি। মা দুর্গার আবির্ভাবের কাহিনী তাই শুধু একটি পৌরাণিক কাহিনী নয়। এটি শক্তি,সাহস এবং ন্যায়ের জয়ের প্রতীক। তবে মা দুর্গার জন্মের কাহিনী যাই হোক না কেন তিনিই সকল শক্তির আধার , সকল অশুভ শক্তির বিনাশকারিনী এবং শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠাত্রী।