ইসলামে রমজান (Ramadan) সংযম, ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির পবিত্রতম সময়। এই মাসের সূচনা নির্ভর করে চাঁদ দেখার উপর... হিজরি ক্যালেন্ডারের নবম মাস শুরু হবে কিনা, তা নির্ধারিত হয় নতুন চাঁদের দর্শনে। তাই প্রতি বছরই রমজানের শুরুর দিন নিয়ে খানিক বিভ্রান্তি দেখা যায়।
হিজরি বর্ষ চন্দ্রচক্রভিত্তিক হওয়ায় রমজান ২৯ বা ৩০ দিনের হয়। নির্দিষ্ট দিনে মাগরিবের নামাজের পর চাঁদ দেখা গেলে পরদিন থেকে প্রথম রোজা শুরু হয়; না দেখা গেলে মাস পূর্ণ করে পরদিন রমজান ধরা হয়। এভাবেই চাঁদ-নির্ভর ঐতিহ্য আজও অটুট।
রমজানের চাঁদ দেখার সঙ্গে সঙ্গে একটি সুন্নত দোয়া পড়ার প্রথা রয়েছে। দোয়াটি হল...
“আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল-আমনি ওয়াল ঈমানি, ওয়াস-সালামাতি ওয়াল ইসলামি, ওয়াত-তওফিকি লিমা তুহিব্বু ওয়া তারজা, রাব্বি ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।”
এর অর্থ- “হে আল্লাহ! এই চাঁদকে আমাদের জন্য নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে উদিত করুন। আপনি যা ভালোবাসেন এবং যাতে সন্তুষ্ট হন, আমাদের সেই তওফিক দান করুন। (হে চাঁদ!) আমার ও তোমার রব আল্লাহ।”
বিশ্বাস করা হয়, আন্তরিক নিয়তে এই দোয়া পড়লে বরকত ও কল্যাণ লাভ হয়। তবে ইসলামের মূল শিক্ষা অলৌকিক প্রত্যাশা নয়; বরং ধৈর্য, সৎকর্ম, দান-সদকা ও কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আত্মোন্নয়নই রমজানের আসল লক্ষ্য।
রমজান কেবল উপবাসের নাম নয়... এটি আত্মসংযমের প্রশিক্ষণ, মানবিকতার চর্চা এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের অনন্য সুযোগ।