'...">
'লঙ্কাপতি রাবণ' নামটি শুনলেই চরম শক্তিশালী, অহঙ্কারী তথা জ্ঞাণী রাজার চিত্রই চোখের সামনে ভেসে ওঠে। তবে লঙ্কাপতি রাবণের দশটি মাথা কিসের প্রতীক জানেন কি? পৌরাণিক ও তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে রাবণ অগাধ পাণ্ডিত্য, অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা এবং অসীম জ্ঞানের প্রতীক। তাই তাঁর দশটি মাথা কেবল তার আসুরিক শক্তির পরিচয় বহন করে না। রাবণকে 'দশগ্রীব' বা 'দশানন' বলা হয়। তাঁর দশটি মাথায় ৪টি বেদ অর্থাৎ ঋগ্বেদ, সামবেদ, যজুর্বেদ, অথর্ববেদ এবং ৬টি শাস্ত্রের- শিক্ষা, কল্প, ব্যাকরণ, নিরুক্ত, ছন্দ ও জ্যোতিষ অর্থাৎ বেদাঙ্গের রহস্য রয়েছে। রাবণ শুধু একজন রাক্ষসরাজ ছিলেন না, তিনি ছিলেন পরম শিবভক্ত, মহাব্রাহ্মণ এবং রাজনীতি, আয়ুর্বেদ ও জ্যোতিষশাস্ত্রে পারদর্শী এক পণ্ডিত।
অনেকে মনে করেন, রাবণের ১০টি মাথা তার দশ গুণ বেশি বুদ্ধিমত্তা ও জ্ঞান ধারণের প্রতীক। অন্যদিকে : দার্শনিকরা রাবণের মাথাগুলোকে কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, দম্ভ, হিংসা, মন, বুদ্ধি, চিত্ত ও অহংকার—এই দশটি নেতিবাচক প্রবৃত্তির প্রতীক হিসেবেও দেখেন, যা তার পতনের কারণ ছিল।
শাস্ত্র বলছে , কঠিন তপস্যার মাধ্যমে মাথা উৎসর্গ করে রাবণ শিবের আশীর্বাদে এই দশ মাথার অধিকারী হয়েছিলেন, যা তার অসামান্য একাগ্রতা ও ত্যাগের উদাহরণ।
রাবণ ছিলেন ঋষি বিশ্রবা এবং দৈত্যরাজকন্যা কৈকসীর সন্তান। জন্মসূত্রে ব্রাহ্মণ হওয়ার কারণে তিনি শাস্ত্রীয় বিদ্যায় অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন। স্তোত্র ও মন্ত্রের জ্ঞান, যজ্ঞ ও আচার-বিধির জ্ঞান, সুর ও সংগীতের জ্ঞান। এবং দৈনন্দিন জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনার জ্ঞান প্রবল ছিল। এছাড়া উচ্চারণতত্ত্ব, ধর্মীয় আচার ও বিধি, ভাষার বিশুদ্ধতা ও প্রয়োগ, শব্দের উৎপত্তি ও অর্থতত্ত্ব, পদ্যের গঠন ও লয়, মহাজাগতিক বিদ্যা ও সময় গণনায় পারদর্শী ছিলেন। সব মিলিয়ে মোট ৬৪ ধরনের বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন দশানন।
পরিশেষে বলা যায়, রাবণের দশ মাথার জ্ঞান তাঁকে 'মহাপণ্ডিত' বানিয়েছিল, কিন্তু তাঁর দম্ভ তাঁকে পতনের পথে নিয়ে গিয়েছিল। যা একটি সতর্কবার্তা হিসেবেও গণ্যা হয়।