ভারতীয় হিন্দু ধর্মের পুরাণ মতে ভাদ্র মাসের শুক্লা চতুর্থীতে ভগবান গণেশ পুনর্জন্ম লাভ করেন। এই জন্য গণেশ চতুর্থীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য গভীর এবং বহু-স্তর বিশিষ্ট। ভগবান গণেশকে 'বিঘ্ন হর্তা' 'সিদ্ধি বিনায়ক' হিসাবে সম্মান করা হয়, যা বাধা অপসারণকারী, এছাড়াও তিনি প্রজ্ঞা, জ্ঞান এবং সমৃদ্ধির দেবতা, এমন গুণাবলী যা ভক্তরা তাদের ব্যক্তিগত এবং পেশাগত জীবনে কামনা করে। শ্রী গণেশের জন্ম তিথি উপলক্ষে দশ দিন ব্যাপী গণেশ উৎসব পালন করা হয়। এই উৎসবটি আধ্যাত্মিক চেতনাকে পুনর্নবীকরণের সময় হিসাবে কাজ করে। ভক্তরা তাদের আত্মাকে পরিষ্কার করতে এবং ঐশ্বরিক আশীর্বাদ পেতে প্রার্থনা, আচার এবং উপবাসে নিযুক্ত হন। কিন্তু জানেন কি শ্রী গণেশের পুনর্জন্ম হল কিভাবে? বিভিন্ন পুরাণে কি ব্যাখ্যা করা হয়েছে? আজ জানাব সেই তথ্য।
স্কন্দ পুরাণ – স্কন্দ পুরাণে গণেশের জন্ম বিষয়ে একাধিক উপাখ্যান বর্ণিত হয়েছে। এই পুরাণের গণেশ খণ্ডে আছে, সিন্দূর নামে এক দৈত্য পার্বতীর গর্ভে প্রবেশ করে গণেশের মস্তক ছিন্ন করে। কিন্তু এতে শিশুটির মৃত্যু ঘটে না, বরং সে মুণ্ডহীন অবস্থাতেই ভূমিষ্ট হয়। জন্মের পরে, নারদ এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে গণেশ তাকে ঘটনাটি জানান। নারদ এরপর তাকে এর একটি বিহিত করতে বললে, সে নিজের তেজে গজাসুরের মস্তক ছিন্ন করে নিজের দেহে যুক্ত করে।
ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ- ব্রহ্মবৈবর্ত্ পুরাণে গণেশের জন্মের বর্ণনা অন্য ভাবে করা হয়েছে। শিব ও পার্বতী পুত্র লাভের আশায় বর্ষ ব্যাপী পুণ্যক ব্রত ও বিষ্ণু পূজা করেছিলেন। এই ব্রতে তুষ্ট হয়ে বিষ্ণু বলেছিলেন, তিনি প্রতি কল্পে পার্বতীর পুত্র রূপে অবতীর্ণ হবেন। এরপর পার্বতীর গর্ভে এক পুত্রের জন্ম হয়। সকল দেব দেবী তাঁর জন্ম উপলক্ষে উৎসবে মেতে ওঠেন। যদিও সূর্য ও ছায়ার পুত্র শনি এই উৎসবে এসে শিশুটির দিকে তাকাতে ইতস্তত করেন। কারণ শনিদেব জানতেন যে,তার দৃষ্টি অমঙ্গল জনক। কিন্তু পার্বতীর পীড়াপীড়িতে শনি শিশুটির দিকে তাকাতে বাধ্য হন। মুহূর্তের মধ্যে শিশুর মস্তক ছিন্ন হয়ে গোলোকে চলে যায়। শিব ও পার্বতী এতে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়লে বিষ্ণু তাঁর বাহন গরুড়ের পিঠে চড়ে পুষ্প ভদ্র নদীর তীরে এসে উপস্থিত হন। সেখান থেকে তিনি একটি হস্তি শিশুর মাথা নিয়ে ফিরে আসেন। এরপর পার্বতীর মুণ্ডহীন শিশুর দেহে সেই হাতির মাথাটি বসিয়ে তার প্রাণ ফিরিয়ে দেন। এই শিশুর নাম রাখা হয় গণেশ, পরে দেবতারা তাঁকে আশীর্বাদ করেন। যেহেতু গণেশ বিষ্ণুর অবতার ও আশির্বাদ ধন্য তাই তিনি সিদ্ধি দাতা হিসাবে জগতে পূজিত হন।