নবদুর্গার সৃষ্টি রহস্য নিয়ে একাধিক পুরাণে বিভিন্ন ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে,যেমন-মার্কণ্ডেয় পুরাণ-এর অন্তর্গত 'দেবীমাহাত্ম্যম্' এবং তার 'দেবীকবচ' অংশে নবদুর্গার প্রধান বর্ণনা ও নয়টি রূপের উল্লেখ পাওয়া যায়। এছাড়াও দেবীভাগবত পুরাণ, শিবপুরাণ, স্কন্দপুরাণ এবং বরহ পুরাণেও দেবী দুর্গার নয়টি রূপ ও তাঁদের মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। তাছাড়াও প্রচলিত জনশ্রুতি কী বলছে? আজ জানাব সেই তথ্য।
নবদুর্গার সৃষ্টি রহস্য, শিব পুরাণের সঙ্গে কিছুটা মিল থাকলেও প্রচলিত জনশ্রুতি কিন্তু ভিন্নমত পোশন করে। একবার শরৎ কালে মা দুর্গা পিতৃগৃহ অর্থাৎ মর্ত্যে তাঁর ভক্তদের দেখতে আসার অনুমতি চাইলেন স্বামী মহাদের কাছে। কিন্তু শঙ্কর মহাদেব কোন মতেই মা দুর্গাকে মর্ত্যে আসার অনুমতি দিলেন না। বরং বললেন ওখানে গিয়ে কাজ নেই, তোমার শরীর খারাপ করবে। মর্ত্যের জল হাওয়া ঠিক নেই। তাছাড়া মর্ত্যবাসীরা তোমাকে ঠিকমত আদর যত্ন করবেনা। কিন্তু মা দুর্গা নাছড়বান্দা, উল্টে মহাদেবকে মা দুর্গা বলেন, আমাকে আমার ভক্তদের বাড়ি যেতে না দিলে আমি রুদ্র মুর্তি ধারণ করব। মহাদেব মা দুর্গার কথাগুলো শুনলেন বটে তবে গুরুত্ব দিলেন না। মহাদেব আবারও মহামায়াকে বিভিন্ন ভাবে বোঝাবার চেষ্টা করলেন। তাতে দুর্গা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে শিবকে নিজের ক্ষমতা দেখাবার জন্য় রণচণ্ডী মুর্তি ধারণ করলেন। এই নয়টি রুদ্র মুর্তি হল দুর্গার ভিন্ন রূপ,একে একে শৈলপুত্রী, ব্রহ্মচারিণী, চন্দ্রঘণ্টা, কুষ্মান্ডা, স্কন্দমাতা, কাত্যায়নী, কালরাত্রি, মহাগৌরী, সিদ্ধিদাত্রী এই নয়টি রূপ মহাদেবকে দর্শন দিলেন। এই সব ভয়ঙ্কর রুদ্র মুর্তি দেখে শিব সত্য়ি সত্যি ভয় পেয়ে গেলেন। মা দুর্গাকে শান্ত রূপ ধারণ করতে বললেন ও পিতৃলয়ে আসার অনুমতি দিলেন। অমাবস্যার পরে ঘটনাগুলি ঘটায় এটাকে দেবী পক্ষ বলা হয়। দেবী পক্ষে মায়ের নয়টি রূপেরই পূজা করা হয়, এটাই হল নবরাত্রি। শেষে দশভূজা মা দুর্গার পূজা শুরু হয়।