২০২৬ সালে গণেশ চতুর্থী পালিত হবে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার। শাস্ত্র অনুযায়ী, ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতে শুরু হয় গণেশ বন্দনা। জন্মতিথি অনুযায়ী মূল পুজো ও প্রতিমা স্থাপন ১৪ সেপ্টেম্বরই অনুষ্ঠিত হবে।
গণেশ চতুর্থী, বিনায়ক চতুর্থী নামেও পরিচিত, একটি উৎসব যা নিছক ধর্মীয় পালনের কাজকে তরান্বিত করে না বরং সম্মিলিত সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার রাজ্যে প্রবেশ করে। প্রধানতঃ ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের রাজা শিবাজীর (১৬৩০-১৬৮০, মারাঠা সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা) যুগ থেকে পুনেতে উৎসবটি প্রকাশ্যে পালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে প্রচুর জমজমাট এবং মহত্ত্বের সাথে গণেশ পুজো উদযাপন করা হয়। এই উৎসবটি প্রভু গণেশের জন্ম তিথিকে স্মরণ করে - জ্ঞান,বুদ্ধি,সিদ্ধি,সমৃদ্ধি এবং বাধা বিঘ্ন দূর করার জন্য পালন করা হয়। কিন্তু জানেন কি সিদ্ধি দাতা গণেশের জন্ম হল কিভাবে? বিভিন্ন পুরাণ বা শাস্ত্র কি বলছে ? আজ জানাব সেই কাহিনী।
ভারতীয় হিন্দু ধর্মের শিব পুরাণের তথ্য অনুযায়ী – পার্বতী একদিন নন্দীকে দ্বারী নিযুক্ত করে স্নান করতে যান। এমন সময় শিব সেখানে উপস্থিত হয়ে নন্দীকে ধমক দিয়ে সরিয়ে পার্বতীর স্নানের স্থলে প্রবেশ করেন। এতে পার্বতী অপমানিত ও ক্ষুব্ধ হন। বিশ্বস্ত সততা বজায় রাখতে স্নান স্থলের পাঁক তুলে একটি সুন্দর পুত্রের মূর্তি তৈরি করেন এবং সেই মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন। তাকে নিজের পুত্রসম বিশ্বস্ত অনুচর করে তোলেন। এরপর একদিন সেই বালককে দ্বারী নিযুক্ত করে পার্বতী স্নানে গমন করলে শিব সেখানে উপস্থিত হন। বালক শিবকে অন্দরে যেতে বাধা দেন। এতে শিব অপমানিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে জোরপূর্বক অন্দরে প্রবেশ চাইলে পার্বতীর ইঙ্গিতে যুদ্ধ হয়। ভীষণ এই যুদ্ধে সমস্ত দেবতারা জড়িয়ে পড়েন। একে একে বিষ্ণু সহ সকল দেবতারা এই যুদ্ধে পরাজিত হন। সৃষ্টির বিনাশ হবে ভেবে নারদের পরামর্শে বিষ্ণু বালককে মোহাচ্ছন্ন করেন ও শিব তাঁর ত্রিশূলের দিয়ে বালকের মস্তক ছেদন করেন। এই সংবাদ শুনে পার্বতী ক্রোধি হয়ে প্রলয় সৃষ্টি করে মহাবিশ্বকে ধ্বংস করতে উদ্যোগী হন। নারদ ও দেবগণ বিপদ বুঝে পার্বতীকে শান্ত করেন। পার্বতী তার পুত্রের পুনর্জীবন দাবি করেন ও এই পুত্র যেন সকলের পূজা পাওয়ার অধিকারী হয়। উপায় না দেখে শিব তখন তাঁর সহচরদের আদেশ দিলেন যে,উত্তর দিশায় শয়নরত প্রথম দৃষ্ট যে কোন একটি জীবের মস্তক আনতে। তারা একটি হস্তিমুণ্ড নিয়ে উপস্থিত হন ও দেবগণ এই হস্তিমুণ্ডের সাহায্যেই তাকে জীবিত করেন। এই ভাবেই সিদ্ধি দাতা গণেশের জন্ম হল।