হিন্দু ধর্মের শাস্ত্র ও তন্ত্র মতে ভাদ্র মাসের কৌশিকী অমাবস্যার এই রাতকে তারা রাত্রিও বলা হয়। এ দিন এক বিশেষ মুহূর্তে স্বর্গ ও নরকের দুই দ্বার মুহূর্তের জন্য উম্মুক্ত হয় ও সাধক নিজের ইচ্ছামতো ধনাত্মক অথবা ঋণাত্মক শক্তি নিজের সাধনার মধ্যে আত্মস্থ করে ও সিদ্ধি লাভ করে। তাই তন্ত্র সাধনার জন্য এই অমাবস্যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি তিথি বলে মনে করা হয়। তন্ত্র সাধনার জন্য সাধারণত জ্যোতিষীরা অমাবস্যার রাতকেই বেছে নেন। কথিত আছে,বামাখ্যাপা কৌশিকী অমাবস্যায় এই বিশেষ ক্ষণে তাঁর কুলকুণ্ডলিনী চক্রকে জাগ্রত করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। তন্ত্র ও শাস্ত্র মতে ভাদ্র মাসের এই তিথিটি একটু বিশেষ। আজকের দিনে অনেক কঠিন তন্ত্র ও গুপ্ত সাধনা করলে আশাতীত ফল মেলে। হিন্দু তন্ত্রশাস্ত্রে এই দিনের এক বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে।
বামাক্ষ্যাপা ছেলেবেলায় গৃহ ত্যাগ করে তিনি কৈলাশপতি বাবা নামে এক সন্ন্যাসীর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। কৈলাশপতি বাবা তারাপীঠে থাকতেন। কথিত আছে বামাক্ষ্যাপা তারাপীঠেই দ্বারকা নদের তীরে যোগ ও তন্ত্র সাধনা শুরু করেছিলন। পরে তিনি নিকটবর্তী মল্লরাজাদের মন্দিরময় গ্রাম মালুটি (অধুনা ঝাড়খণ্ড রাজ্য)তে যান যোগ সাধনার জন্যে। সেখানে দ্বারকার তীরে মৌলাক্ষী দেবীর মন্দিরে সাধনা কালে প্রায় ১৮ মাস অবস্থান করেন। বামাক্ষ্যাপার সাধনায় প্রসন্ন হয়ে আজকের এই বিশেষ দিনে দশ মহাবিদ্যার দ্বিতীয়া স্তরের অন্যতম দেবী মা তারা মর্ত ধামে আবির্ভূত হয়েছিলেন। দেবী তারা ভয়ংকর বেশে বামাক্ষ্যাপাকে দর্শন দিয়েছিলেন এবং পরে মাতৃবেশে কোলে তুলে নিয়েছিলেন। এই ভাবেই তিনি সাধনায় সিদ্ধি লাভ করেন। ক্রমে তিনি তারাপীঠের প্রধান ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন। ভক্তরা বিশ্বাস করত তার বিশেষ অলৌকিক ক্ষমতা আছে। এই উপলক্ষে তখন থেকে বীরভুম জেলার তারাপীঠে বিশাল উত্সবের সূচণা হয়৷