জানেন কি, বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র,শিবের ত্রিশূল,ইন্দ্রের বজ্র,যমরাজের গদা,ব্রহ্মার পুষ্পক রথ, কৃষ্ণের দ্বারকা নগরী,পাণ্ডবদের মায়াসভা, রাবণের লঙ্কা পুরী কে বানিয়েছিলেন? আজ থেকে বহুবছর আগে কোন ইঞ্জিনিয়ারের হাতের ছোঁয়ায় গড়ে উঠেছিল এই মহান শিল্প নিদর্শন? আজ আলোচনা করব সেই মহান শিল্পের কারিগরকে নিয়ে।
সনাতন ধর্ম ও হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে যা কিছু কৃত্রিম সৃষ্টি তার শ্রষ্ঠা স্বয়ং বিশ্বকর্মা। হিন্দু স্থাপত্য দেবতা বিশ্বকর্মা, তাকে স্বয়ম্ভু এবং বিশ্বের স্রষ্টা হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তিনি দেবতা কৃষ্ণের রাজধানী দ্বারকা শহরটি নির্মাণ করেছিলেন। এছাড়াও তিনি রামায়ণে বর্ণিত লঙ্কা নগরী, পাণ্ডবদের মায়া সভা, রামায়ণে উল্লিখিত ব্রহ্মার পুষ্পক রথ, দেবতাদের বিভিন্ন গমনাগমনের জন্য বিভিন্ন বাহন, দেবপুরী,ইন্দ্রের সভাগৃহ এছাড়া বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র, শিব এর ত্রিশূল, কুবের এর অস্ত্র, ইন্দ্রের বজ্র, কার্তিকের তীর ধনুক সহ দেবতাদের জন্য বহু কল্পিত অস্ত্রের স্রষ্টা। বিশ্বকর্মার ভক্তরা বিশ্বাস করেন যে তিনি এই বিশ্বের সব কর্মের সম্পাদক। তিনি সব ধরনের শিল্পের প্রকাশক। শিল্পবিদ্যায় বিশ্বকর্মার রয়েছে একচ্ছত্র অধিকার। তিনি নিজেই চতুঃষষ্টিকলা, স্থাপত্যবেদ এবং উপবেদ এর প্রকাশক। কথিত আছে, পুরীর বিখ্যাত জগন্নাথদেবের মূর্তিও তিনিই নির্মাণ করেছিলেন। তাকে স্বর্গীয় ইঞ্জিনিয়ার বলা হয়।
মর্ত্য়বাসীরা বিশ্বকর্মার সন্তুষ্টি অর্জন ও তার প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে কেবল প্রকৌশলী কিংবা স্থপতি সম্প্রদায় নয়, সব ধরনের কারিগর, সূতার, মিস্ত্রি, কামার-কুমার, স্বর্ণকার, শিল্প কর্মী, কারখানার শ্রমিক, ঢালাইকর সহ অনেক ধরনের পেশার মানুষ তাঁর পূজা করে। তারা আরও উন্নত ভবিষ্যতের জন্য, নিরাপদ কাজের পরিস্থিতি এবং নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সর্বোপরি নিজ নিজ ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য প্রার্থনা করে। এমন কি আধুনিক ইলেকট্রনিক সার্ভার গুলিও যাতে সুষ্ঠুভাবে কাজ করে সে জন্যও কেউ কেউ তার উপাসনা করে থাকে।