প্রতি বছর ১৭ই সেপ্টেম্বর বিশ্বকর্মা পূজা হলেও এ বছর ১৮ই সেপ্টেম্বর বিশ্বকর্মা পূজা হবে। চলতি বছরে পঞ্জিকার সৌর গণনা ও কন্যা সংক্রান্তির সময়ের পার্থক্যের কারণে ১৭ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে ১৮ই সেপ্টেম্বর বিশ্বকর্মা পূজা পালিত হচ্ছে। সূর্য সাধারণত সিংহ রাশি থেকে কন্যা রাশিতে প্রবেশের ক্ষণ বা ‘কন্যা সংক্রান্তি’র ওপর নির্ভর করে এই তিথি ঠিক হয়। বিশ্বকর্মাকে দেব কারিগর বলা হয়। কিন্তু জানেন কি বিশ্বকর্মা কে? কিভাবে তাঁর সৃষ্টি হল? আজ জানাব সেই পৌরাণিক তথ্য়।
ভারতীয় হিন্দু শাস্ত্র ও পুরাণ মতে, ভগবান বিষ্ণুর নাভিপদ্ম থেকে ব্রহ্মার জন্ম হয়,এই আদিপুরুষ পরমেশ্বর বিষ্ণুর নির্দেশে এই ব্রহ্মান্ডের সৃষ্টি করলেন ব্রহ্মা। আর ব্রহ্মার নির্দেশেই তৈরি হল জগৎ সংসার। আকাশ, বাতাস, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র, পাহাড়, পর্বত সব কিছু। কিন্তু দেবতাদের বসবাসের বাসস্থান ও কাজ কর্মের যন্ত্রপাতি বা যুদ্ধ-বিগ্রহের অস্ত্র শস্ত্রের কোন ব্য়বস্থাই তিনি করতে পারেন নি। সমস্ত দেবতারা একত্রে জোটবদ্ধ হয়ে ব্রহ্মার কাছে হাজির হয়ে বাসস্থান ও সমস্ত বিষয়ের দরবার করলেন। সব কিছু শুনে ব্রহ্মা দায়িত্ব দিলেন দেবগুরু বৃহস্পতিকে। পুরাণ আর ঋক বেদ অনুসারে বিশ্বকর্মার জন্ম রহস্য নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে।
পুরাণে কথিত আছে, দেবগুরু বৃহস্পতির নির্দেশে তাঁর একমাত্র বোন যোগসিদ্ধা ও অষ্টম বসুর শ্রেষ্ঠ বসু প্রভাসের ঔরসে জন্ম হয় বিশ্বকর্মার। পিতার মতো তিনিও শিল্পকলা ও স্থাপত্য বিদ্যায় পারদর্শী হন এবং দেবতাদের প্রধান স্থপতির আসন লাভ করেন। আবার ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে বলা আছে, প্রজাপতি ব্রহ্মার নাভি কোষ থেকে বিশ্বকর্মার উৎপত্তি। অন্য় মতে, বিশ্বকর্মা ও তাঁর স্ত্রী ঘৃতাচী, দুজনেই শাপভ্রষ্ট হয়ে পৃথিবীতে জন্ম নেন। বিশ্বকর্মা বাস্তু শিল্পীর রূপ পান। ঋগ্বেদ অনুসারে, ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলে বিশ্বকর্মাকে কোনো সাধারণ মানুষ বা দেবতা হিসেবে নয়, বরং পরম সত্যের প্রতিরূপ বা সৃষ্টির আদি শক্তি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সময়ের সূচনার আগে থেকেই তিনি বিদ্যমান ছিলেন এবং নিজের প্রচেষ্টায় স্বর্গ ও মর্ত্যের সমস্ত নির্মাণ সামগ্রী তৈরি করেছেন। মোদ্ধাকথা বিশ্বকর্মা বৈদিক শিল্পী হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন সেই পৌরাণিক কাল থেকে।