Calcutta Television Network

অর্ঘ হিসাবে মা দুর্গাকে, কে তার নিজের চোখ নিবেদন করেছিলেন?

অর্ঘ হিসাবে মা দুর্গাকে, কে তার নিজের চোখ নিবেদন করেছিলেন?
11 October 2026 • 03:19:41 pm

ত্রেতাযুগে  শ্রীরামচন্দ্রের স্ত্রী সীতাকে ছলনা করে লঙ্কার রাক্ষস  রাবণ অপহরণ করেন। রামচন্দ্র রাবণকে বধ করে সীতাকে উদ্ধার করার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। রাবণের সাথে যুদ্ধের সময় রাম যখন জয়ী হওয়া নিয়ে সংশয়ে পড়েন, তখন ব্রহ্মা তাঁকে দেবী দুর্গার অকালবোধন করার পরামর্শ দেন। শাস্ত্রে সাধারণত বসন্ত কালে দেবীর পূজার বিধান থাকলেও, যুদ্ধ জয়ের প্রয়োজনে  শরৎকালে দেবীকে আহ্বান করা হয়েছিল, যা অকালবোধন নামে পরিচিত।  রামচন্দ্র কর্তৃক শরৎকালে দেবী দুর্গার যে আরাধনা করা হয়েছিল, তাকে হিন্দু ধর্মে অকালবোধন বলা হয়। কৃত্তিবাস  রামায়ণ এবং পুরান অনুযায়ী এর সংক্ষিপ্ত বিবরণ হলঃ

শাস্ত্রমতে দেবী দুর্গার পূজার সঠিক সময় হলো বসন্তকাল  যা বাসন্তী পূজা নামে পরিচিত। কিন্তু রাবণের সাথে যুদ্ধের সময় শ্রীরামচন্দ্র শরৎকালে দেবীর কৃপা পাওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেন। সূর্যের দক্ষিণায়ন বা শরৎকাল দেবলোকের  রাত্রি হওয়ায় দেবী দুর্গা তখন নিদ্রিত ছিলেন। তাই দেবীকে অসময়ে জাগিয়ে পূজা করার প্রয়োজন পড়ে, যাকে ‘অকালবোধন’ বলা হয়। ব্রহ্মা ও দেবগণের পরামর্শে রামচন্দ্র শরৎকালে আশ্বিন মাসের শুক্লা ষষ্ঠীর দিন দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস সম্পন্ন করেন।দেবী দুর্গার কৃপা ও শক্তি লাভ করে রাবণকে বধ করার জন্য রামচন্দ্র বিল্ববৃক্ষতলে বসে চণ্ডীপাঠ ও মহাপূজা শুরু করেছিলেন। রাবণকে বধ করার উদ্দেশ্যে রামচন্দ্র ১০৮টি নীলপদ্ম দিয়ে দেবীর আরাধনা করার সংকল্প করেন। পূজার শেষ মুহূর্তে দেখা যায় একটি নীলপদ্ম কম পড়ছে। রামচন্দ্র তখন নিজের একটি চোখ উপড়ে দেবীকে অর্পণ করতে উদ্যত হন। তাঁর এমন ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে দেবী দুর্গা মর্ত্যে আবির্ভূত হন এবং তাঁকে বিজয়ী হওয়ার আশীর্বাদ দেন।

দেবীর আশীর্বাদ নিয়ে দশমীর দিনে রামচন্দ্র লঙ্কেশ্বর রাবণকে বধ করেন। যাকে সর্ব ভারতীয় স্থরে দশেহরা বলা হয়। এই কাহিনির ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে শরৎকালে বাঙালি সমাজে দুর্গাপূজার প্রচলন ঘটে।