পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, মহর্ষি বেদব্যাসকে মহাভারত রচনা করতে ব্রহ্মা অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন। বেদব্যাস মহাভারতের বিশাল কাহিনী আত্মস্থ করার পর ব্রহ্মা স্বয়ং তাঁর কাছে আসেন ও মহাভারত রচনার নির্দেশ দেন। উদ্দেশ্য ছিল কুরুবংশের ধ্বংসলীলা ও কুরুক্ষেত্রের ভয়াবহ যুদ্ধের পর ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধর্ম, নীতি ও মানব জীবনের সত্য শিক্ষা দিতে মহাভারত রচনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিলেন। কিন্তু কিভাবে মহাভারত রচিত হল? কেনই বা গণেশের একটি দাঁত ভাঙ্গল? আজ জানাব সেই তথ্য-
পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী গণেশের একটি দাঁত ভাঙার প্রধানত দুটি বিখ্যাত কারণ প্রচলিত আছে-
ব্যাসদেবের শর্তঃ মহাভারত লেখার সময় মহর্ষি বেদব্যাস মহাভারত রচনার জন্য গণেশকে লিপিকার হওয়ার অনুরোধ করেন। গণেশ শর্ত দেন যে বেদব্যাস একটানা আবৃত্তি করে যাবেন এবং লেখার গতি কোথাও থামবে না। বেদব্যাসও পাল্টা শর্ত দেন যে গণেশকে প্রতিটি শ্লোকের অর্থ বুঝে তবেই লিখতে হবে। শর্তে দুজনেই রাজি হলেন। শুরু হল লেখা,শর্ত অনুযায়ী দ্রুত আবৃত্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত লেখার সময় হঠাৎ গণেশের লেখার কলম ভেঙে যায়। কাজ থামিয়ে নতুন কলম খুঁজতে গেলে শর্ত ভঙ্গ হতো। তাই গণেশ মুহূর্তের মধ্যে নিজের একটি দাঁত ভেঙে ফেলেন এবং তা দিয়ে মহাভারত লেখা চালিয়ে যান। এই ঘটনার পর থেকেই তাঁকে 'একদন্ত' বলা হয়।
পরশুরামের সঙ্গে যুদ্ধঃ একটি পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী,অর্থাৎ ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ অনুসারে, মহর্ষি পরশুরাম মহাদেব শিবকে দর্শন করতে কৈলাসে আসেন। সেই সময় শিব নিদ্রারত ছিলেন এবং গণেশ কৈলাসের প্রবেশদ্বার পাহারা দিচ্ছিলেন। গণেশ পরশুরামকে ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়ায় দুজনের মধ্যে প্রথমে বাক্ বিতণ্ডা ও পরে তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়। পরশুরামকে পরাস্ত করার পর, পরশুরাম তাঁর শেষ অস্ত্র অর্থাৎ কুঠার যা স্বয়ং শিব তাঁকে দিয়েছিলেন সেটি গণেশের দিকে নিক্ষেপ করেন। পিতার দেওয়া অস্ত্রের সম্মানার্থে গণেশ স্থির থাকেন। কিন্তু সেই আঘাতকে প্রতিহত করতে নিজের একটি দাঁতে তা গ্রহণ করেন এবং তাতে তাঁর একটি দাঁত ভেঙে যায়। এ ছাড়াও অন্য একটি ব্যাখ্যা রয়েছে।
গজমুখাসুর বধঃ অন্য একটি কাহিনি মতে, গজমুখাসুর নামের এক অসুরকে বধ করার জন্য গণেশ নিজের দাঁত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন এবং সেই যুদ্ধেই তাঁর দাঁতটি ভেঙে যায়।