Calcutta Television Network

সাপের লেজে মাকড়সার বাসা? গবেষণায় মিলল বিরল তথ্য

সাপের লেজে মাকড়সার বাসা? গবেষণায় মিলল বিরল তথ্য
18 September 2026 04:30:35 pm

দূর থেকে দেখলে মনে হতে পারে, সাপটির লেজের ডগায় একটি ক্ষুদ্র মাকড়সা রয়েছে। খানিক গোলাকার। ফুলে থাকা সেই অংশবিশেষ থেকে চার দিকে বেরিয়ে রয়েছে সরু কাঁটার মতো অংশবিশেষ। লেজটি অল্প নড়াচড়া করলে খানিক মাকড়সার মতোই লাগে। তবে আদতে সেটি কোনও মাকড়সা নয়, বরং একটি বিষধর সাপের শরীরেরই অংশবিশেষ। নাম স্পাইডার-টেলড হর্নড ভাইপার। ভাইপার গোত্রের অত্যন্ত বিরল প্রজাতির সাপ। এই সাপের এমন অদ্ভুত লেজই তাকে অন্যদের থেকে খানিক আলাদা করে তোলে। এই সাপের মূলত পশ্চিম ইরান এবং সংলগ্ন পাহাড়ি ও শুষ্ক অঞ্চলে দেখা মেলে। ১৯৬৮ সালে প্রথমবার এই সাপের সন্ধান পাওয়া গেছিল। তবে তার লেজের অদ্ভুত আকৃতি তখন গবেষকদের বিশেষ নজর কাড়েনি। কারও ধারণা ছিল, লেজের ডগায় হয়তো কোনও অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটেছে। কেউ আবার ভেবেছিলেন, কোনো অন্য প্রজাতির পরজীবী বাসা বেঁধেও থাকতে পারে।

পরে আরও কিছু নমুনা সামনে আসার পর সেই ধারণা ক্রমাগত বদলে যায়। ২০০৩ সালে পাওয়া দ্বিতীয় সাপটির লেজেও একই রকম গঠন লক্ষ্য করা যায়। শেষ পর্যন্ত ২০০৬ সালে এটিকে পৃথক একটি প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। অর্থাৎ প্রথমবার দেখা যাওয়ার পর প্রায় ২৮ বছর অতিক্রম করে তার পরিচয় নিশ্চিত হয়।

সম্প্রতি সাপটির অদ্ভুত লেজের গঠন নিয়ে গবেষণা করেছেন শিকাগোর ফিল্ড মিউজিয়ামের সরীসৃপ বিশেষজ্ঞ সারা রুয়ান ও তাঁর সহকর্মীরা। তাঁদের গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে ‘দ্য অ্যানাটমিক্যাল রেকর্ড’ নামক একটি পত্রিকায়। লেজের এই বিশেষ গঠন কী ভাবে তৈরি হয়েছে, তা জানতে গবেষকেরা অত্যাধুনিক এক্স-রে প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাপটির লেজ পরীক্ষা করেন। পরীক্ষার ফলেই সামনে আসে চমকপ্রদ কিছু তথ্য। বাইরে থেকে লেজটি যতই অস্বাভাবিক দেখাক, তার ভিতরের কশেরুকাগুলি মোটেই অতটা অস্বাভাবিক নয়। অন্য অনেক ভাইপারের মতোই সেগুলির গঠন স্বাভাবিক। মাকড়সার মতো দেখতে অংশটিতে কোনো হাড়ের উপস্থিতি নেই। সেখানে রয়েছে বিশেষ ধরনের এক প্রজাতির লম্বাটে আঁশ। গবেষক জর্জিওস জর্জিয়ালিস জানান, তাঁরা প্রথমে অনুসন্ধান করেছিলেন লেজের বাইরের অদ্ভুত চেহারার সঙ্গে ভিতরের গঠনেও কোনও অস্বাভাবিকতা  রয়েছে কি না। কিন্তু ফলাফল তাঁদের অবাক করেছে। তাঁর মতে, এই ঘটনা জীবাশ্ম নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কোনও প্রাণীর শুধুমাত্র কঙ্কাল বা জীবাস্মের অংশবিশেষ পাওয়া গেলে তার শরীরের প্রকৃত রূপ সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা পাওয়া নাও যেতে পারে। স্পাইডার-টেলড ভাইপারের ক্ষেত্রেও কঙ্কাল দেখে তার মাকড়সার মতো লেজের কথা বোঝার কোনোরকম উপায় থাকত না। তবে এমন লেজ থাকার পিছনে রয়েছে অত্যন্ত কার্যকর একটি বিশেষ কারণ। সাপটি লেজের ডগাটিকে শিকারের টোপ হিসেবে বহুক্ষেত্রে ব্যবহার করে। মাকড়সার মতো অংশটি নাড়িয়ে শিকারি পাখিদের আকৃষ্ট করে। পাখি ছাড়াও আকৃষ্ট হয় বিভিন্ন পোকামাকড় ও অন্যান্য পতঙ্গরা। পাখি বা অন্যান্য প্রাণীরা সেটিকে আসল মাকড়সা ভেবে কাছে এগিয়ে এলেই সুযোগ বুঝে অতর্কিতে আক্রমণ করে সাপটি। বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী কার্ট শোয়েঙ্কের মতে, এই শিকার ধরার কৌশলের শুরু সম্ভবত সাপটির পূর্বপুরুষদের সমসাময়িক যুগ থেকেই। সময়ের সঙ্গে বিবর্তনের ফলে সেই বৈশিষ্ট্য ধীরেধীরে আরও কার্যকর রূপ পেয়েছে। অর্থাৎ, যে লেজকে প্রথম দেখায় অদ্ভুত বলে মনে হয়, সেটিই আসলে এই বিরল সাপের শিকার ধরার গুরুত্বপূর্ণ গুপ্ত অস্ত্র।

×
  • CTVN