চাঁদকে নিয়ে কত গান। গীতা দত্তের অপরূপ গায়কি। কিংবা হালের অঞ্জনপুত্র প্রশ্ন তুলছেন, 'চাঁদটা যদি কিনেও ফেলো, জ্যোৎস্নাটাকে রাখবে কোথায়?' হিন্দীই বা পিছিয়ে থাকবে কেন? ইসমাইল দরবারের মন কেড়ে নেওয়া সুরে মেহবুব লিখছেন, 'চাঁদ ছুপা বাদল মে'
চাঁদকে ঘিরে রোমান্টিকতা এই নীল গ্রহে কম নেই। আর তাই কম নেই কৌতূহলও। আর সেই কিনা গণেশ চতুর্থীর গুরুত্বপূর্ণ তিথিতে চাঁদের পাশে অন্য কারুর আগমন! সন্ধ্যার আকাশে তখনও দিব্যি রং ছড়াচ্ছে সূর্য। পুরোপুরি রাত নামেনি। পশ্চিম আকাশে দেখা দিয়েছে সরু একফালি চাঁদ। তার ঠিক পাশেই উজ্জ্বল এক আলোকবিন্দু। সোমবার সন্ধ্যায় কলকাতা থেকে কোচবিহার, রাজ্যের না না প্রান্তে আকাশ পরিষ্কার থাকলেই চোখে পড়েছে এই মনোরম দৃশ্য। স্বাভাবিক ভাবেই সেই ছবি দিব্যি ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমেও। অনেকেই জানতে চেয়েছেন, চাঁদের পাশে এত উজ্জ্বল আলোটি আসলে কীসের? এককথায় উত্তর, সেটি শুক্র গ্রহ। চাঁদের খুব নিকটে শুক্রকে দেখা যাওয়ার ঘটনা নতুন বা অত্যন্ত বিরল কিছু মহাজাগতিক ঘটনা আদতেও নয়। তবে খালি চোখে পাশাপাশি দু’টি উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কের এমন অবস্থান নিঃসন্দেহে নজর কেড়েছে বাঙালির। গত কৌশিকী অমাবস্যার পর তৃতীয় দিনের চাঁদ আকাশে উদ্ভাসিত। চাঁদের খুব সামান্য অংশই সূর্যের আলোয় আলোকিত, তাই অস্পষ্টও বটে। ফলে সরু বাঁকা চাঁদের পাশে উজ্জ্বল শুক্রের উপস্থিতি আরও জোরালো হয়ে উঠেছিল।
শুধু ভারতেই নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গা থেকেই সোমবার এই অভিনব দৃশ্য দেখার সুযোগ ঘটেছিল। সূর্যাস্তের পর উত্তর গোলার্ধের দক্ষিণ-পশ্চিম আকাশে তাকালেই দেখা মিলেছে চাঁদ ও শুক্রের কাছাকাছি সহাবস্থানের। দক্ষিণ গোলার্ধ থেকেও দু’জনকে নিকটবর্তী অবস্থানে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে। ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজ়িক্স-এর এক কর্তার বিবৃতি, এর পিছনে রয়েছে পৃথিবী, সূর্য, চাঁদ ও অন্যান্য গ্রহের কক্ষপথের উল্লেখযোগ্য অবস্থান। পৃথিবী-সহ অধিকাংশ গ্রহ সূর্যকে প্রায় একই সমতল বরাবর প্রদক্ষিণ করে। কিন্তু চাঁদের কক্ষপথ সেই সমতলের সঙ্গে পুরোপুরি একই সুতোয় মেলে না। সেটি হেলে রয়েছে প্রায় পাঁচ ডিগ্রি। কখনও কখনও চাঁদ নিজের কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে ওই সমতলের খুব কাছাকাছি চলে আসে। সোমবার তেমনই একটি অবস্থান তৈরি হয়। তাই পৃথিবী থেকে তাকালে শুক্রের খুব কাছেই চাঁদকে লক্ষ্য করা যায়। চাঁদের কক্ষপথ এবং পৃথিবীর কক্ষপথ যদি একই সমতলে থাকত, তা হলে এমন দৃশ্য আরও ঘন ঘন আমরা প্রায়শই দেখতে পেতাম। চাঁদ একই সমতলে এসে পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যিখানে সরাসরি অবস্থান করলে অবশ্য তৈরি হয় অন্য এক মহাজাগতিক দৃশ্য, সূর্যগ্রহণ। সোমবারের আকাশের সৌন্দর্যের সঙ্গে অবশ্য গ্রহণের কোনও সম্পর্ক ছিল না।