Calcutta Television Network

টাইটানিক ও মমির অভিশাপ

টাইটানিক ও মমির অভিশাপ
18 September 2026 12:20:10 pm

১৯৮৬ সালের জুলাই মাস। কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ডের প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে অনুসন্ধান চালাচ্ছেন বব ব্যালার্ড ও তাঁর দল। অবশেষে খোঁজ মিললো টাইটানিকের। কিন্তু খুঁজে পাওয়ার এক বছর পর হঠাৎই তাঁর কাছে এসে পৌঁছলো অ্যারিজোনার এক ভদ্রমহিলার চিঠি। গ্রিন ভ্যালিতে তাঁর আবাস। নাম মার্গারেট রামেল। তিনি এই প্ৰখ্যাত সমুদ্রবিজ্ঞানীকে চিঠি লিখে জানান টাইটানিকের অভ্যন্তরে নাকি শায়িত ছিল একটি মমি। তিনি এও দাবী করেন ফারাওয়ের অভিশাপেই নাকি জাহাজটি ডুবেছিল। উনি এই বিষয়ে বিজ্ঞানীর মতামত জানতে চেয়ে পত্রটি লেখেন! রামধনু রঙের ইউনিকর্ণের ছবি আঁকা একটি পাতি স্টেশনারি দোকান থেকে কেনা পাতায় নীল রঙের টানা অক্ষরে লেখা চিঠি। যে চিঠিটি পরবর্তীতে প্রকাশ পেয়েছিল প্রথম সারির দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টে। প্রাচীন অভিশাপই নাকি জাহাজডুবির জন্য দায়ী, দাবী ছিল খানিক এমনই। ‘টাইটেনিকের ভূত’ এমনই শিরোনাম করেছিল সাংবাদিকরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, খ্রিস্টপূর্ব ১৬০০ বছর আগের থিবসের পবিত্র শহরে মৃত্যুবহনকারী এক মিশরীয় পুরোহিতের কথা। তাঁর আত্মা নাকি মৃত্যু পরবর্তী সময়ে হয়ে উঠেছিল প্রতিশোধপরায়ণ। শোনা যায় এক অভিশাপের কথাও। যারা তাঁর সমাধি ও স্মৃতিকে কখনো চেষ্টা করবে অপবিত্র করার, তাঁদের উপর বর্ষিত হবে অভিশাপ। ৩৫০০ বছর পূর্বে মিশরের কিংবদন্তীতুল্য নীলনদের অপমানেও নাকি এমন হয়েছে বারবার। 

তৎকালীন ইউরোপসহ পশ্চিমা বিশ্বে বাড়ছে মিশরীয় সংস্কৃতির প্রতি আকর্ষণ। বহু মানুষ রীতিমতো পড়াশোনা করছেন হায়ারোগ্লিফিক্সের উপর। মনে রাখতে হবে যে মমিটির কথা উল্লেখ করা হচ্ছে তা কোনো মিউজিয়ামে সংরক্ষিত সাধারণ মমি নয়। এর পিছনে রয়েছে রহস্যময় মৃত্যু, দুর্ঘটনা এবং আর্থিক ধ্বংসের ইতিহাস। মমির বাক্সটি উত্তোলন কিংবা পরিবহনকারী ব্যক্তিদের মধ্যেও এ নিয়ে রহস্যময় ঘটনা প্রচলিত আছে। গবেষকরাও পর্যন্ত এটি নিয়ে সমস্যায় পড়েছিলেন, এমনটাই উল্লেখ রয়েছে। শোনা যায় উইলিয়াম টি স্টেড নামক এক সাংবাদিকের কথাও। যিনি জাহাজ ডুবির মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে টাইটানিকের শেষ সন্ধ্যার কিছুটা সময় ধরে ও মমির কাল্পনিক ঘটনাক্রম মিশিয়ে একটি রোমহর্ষক গল্প ফেঁদেছিলেন। ওই চিঠির লেখক রামেল হয়ত প্রচলিত এমনই নানা কাহিনী শুনে ব্যালার্ডের কাছে সরাসরি মতামত জানতে চেয়ে চিঠি পাঠান। কিন্তু চিঠিটি পাঠানোর পূর্বে তিনি নিজে গিয়ে টাইটানিকের সম্পূর্ণ কারগো তালিকা পর্যবেক্ষণ করেন, যেটি সংরক্ষিত ছিল। কিন্তু সেই তালিকায় জাহাজে কোন প্রাচীন মিশরীয় প্রত্নতাত্ত্বিক বস্তুর রেকর্ড ছিল না। যদিও ব্যালার্ড এটিকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিতেই পারতেন, কিন্তু তিনি নিজের ব্যস্ত সময় থেকে অবসর বার করে এই চিঠির উত্তর দেন। তিনি টাইটানিক সম্পর্কে পাওয়া প্রতিটি চিঠিরই সময় বার করে উত্তর দিতেন। ব্যালার্ডের প্রত্যুত্তর পত্রটিও আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে। তিনি লিখেছিলেন, ফারাওয়ের অভিশাপে টাইটানিক ডুবে যাওয়ার গল্পটি খানিক আকর্ষণীয় হলেও আদতে অসম্ভব। সমস্ত প্রমান একত্র করলে রোমাঞ্চকর দিকটির তুলনায় বাস্তবসঙ্গত দিকটিই প্রকাশ্যে আসে। অগত্যা সবকিছুই নিমজ্জিত ওই হিমশৈলের নিচে অতল জলরাশিতে।

×
  • CTVN