Calcutta Television Network

অতলান্তিকে হলোটা কী?

অতলান্তিকে হলোটা কী?
17 September 2026 04:29:45 pm

সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ। উত্তাল থাকে অতলান্তিক। এ বছর এখনও পর্যন্ত একটি হ্যারিকেনও তৈরি হয়নি অতলান্তিক মহাসাগরে। বছরের এই সময়ে সাধারণত সেখানে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় একের পর এক তৈরি হতে থাকে। তাই চলতি বছরের এই সুদীর্ঘ ‘নীরবতা’ আবহবিদদের কাছে খানিক অস্বাভাবিক ঠেকেছে। আপাতদৃষ্টিতে ঝড়ের দাপট হ্রাস পাওয়ায় স্বস্তির কারণ মনে হলেও, এর পিছনে জলবায়ুর কোনও বড়ো পরিবর্তনের সংকেত রয়েছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। ১৯৬৬ সাল থেকে উপগ্রহ ব্যবহার করে অতলান্তিকের ঘূর্ণিঝড়ের গতিবিধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সেই সময় থেকে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এত দেরি পর্যন্ত সেখানে কোনও হ্যারিকেন তৈরি না হওয়ার ঘটনা খানিক নজিরবিহীন। এর আগে সবচেয়ে দেরিতে বছরের প্রথম হ্যারিকেন তৈরি হয়েছিল ১১ সেপ্টেম্বর। ২০০২ এবং ২০১৩ সালে ওই দিন প্রথম হ্যারিকেনের দেখা মেলে। কিন্তু এ বার সেই সময়সীমাও পেরিয়ে গিয়েছে। সাধারণত ১ জুন থেকে ৩০ নভেম্বর অতলান্তিকে ঘূর্ণিঝড় তৈরীর মরসুম থাকে। এই সময়ে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৪টি ঝড়ের নামকরণ করা হয়। তার মধ্যে বেশ কয়েকটি ঝড় পরে হ্যারিকেনের শক্তিও অর্জন করে।

তবে এ বার এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমেরিকার ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা NOAA পূর্বেই জানিয়েছিল, চলতি মরসুমে ঝড়ের সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় হ্রাস পেতে পারে। এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসাবে এল নিনোর প্রভাবকেই দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীমহলের একাংশ। প্রশান্ত মহাসাগরের জলের তাপমাত্রা ও বায়ুপ্রবাহে বিপুল পরিবর্তন ঘটায় এল নিনো। তার প্রভাব সরাসরি শুধু প্রশান্ত মহাসাগরেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের আবহাওয়াতেও এর দীর্ঘ প্রভাব পড়ে। চলতি বছরে এর প্রভাবে বায়ুমণ্ডলের এমন বেশ কিছু পরিবর্তন হয়েছে, যার ফলে অতলান্তিকে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় তৈরির উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হতে পারছে না। চলতি বছরে অবশ্য অতলান্তিক সম্পূর্ণ ঝড়মুক্ত নয়। এখনও পর্যন্ত সেখানে পাঁচটি ক্রান্তীয় ঝড় তৈরি হতে দেখা গেছে। তবে সেগুলির কোনওটিই কিন্তু হ্যারিকেন পর্যায়ে পৌঁছয়নি।

বিপরীতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ঝড়ের কার্যকলাপ তুলনামূলক ভাবে এবছর খানিক বেশি। পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ইতিমধ্যেই ১৬টি এবং মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরে ২০টি নামকরণযোগ্য ঝড় তৈরি হতে দেখা গেছে। এর মধ্যে কয়েকটি হ্যারিকেনের শক্তিও লাভ করেছে। আবহবিদদের আশঙ্কা, এ বছরের এই শান্ত পরিস্থিতি আগামী বছরেও একই রকম থাকবে, এমনটা ধরে নেওয়া একদমই ঠিক হবে না। এমআইটির আবহাওয়াবিদ কেরি এমানুয়েলের মতে, অতলান্তিকের সমুদ্রপৃষ্ঠের জল ক্রমাগত উষ্ণ হচ্ছে। ভবিষ্যতে সামুদ্রিক উষ্ণতা ও বায়ুর তাপমাত্রার পার্থক্য হ্যারিকেন তৈরির ক্ষেত্রে অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। ফলে পরবর্তী মরসুমে শক্তিশালী ঝড়ের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, এ বছর অতলান্তিকের শান্ত পরিবেশ সাময়িক স্বস্তি দিলেও আবহবিদেরা এখনই এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হতে চাইছেন না। তাঁদের মতে, সমুদ্রের তাপমাত্রা এবং বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তনের দিকেও নজর রাখা জরুরি। আগাম সতর্কতা এবং প্রস্তুতিই ভবিষ্যতে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমানোর অন্যতম পদ্ধতি হতে পারে।

×
  • CTVN