বিজ্ঞানীরা ধরে নেন, পৃথিবীর মতো অন্য গ্রহেও প্রাণ থাকতে পারে। তবে তাদের রূপ আমাদের পরিচিত প্রাণীর মতো নাও হতে পারে। তারা হতে পারে গ্যাসীয়, জলভিত্তিক, বা এমনকি মাইক্রোস্কোপিক আকারের। তাই যে আমরা যে ছবিতে দেখি বড় চোখ, সবুজ বা ধূসর রঙ-তাও কেবল অনুমান।
সেটি হতে পারে এমন জীব যা মাইক্রোবিয়াল বা এককোষী প্রাণী হিসেবে বিদ্যমান। যেমন, ইউরোপার (Jupiter-এর চাঁদ) বরফের নিচে সম্ভাব্য জীবাণু থাকতে পারে। তবে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ সক্ষম এলিয়েন। যেমন সিনেমায় দেখা যায়, তাত্ত্বিকভাবে এখনও প্রমাণিত নয়।
বিজ্ঞানীরা বর্তমানে 'অ্যাস্ট্রোবায়োলজি' নামে একটি শাখা নিয়ে কাজ করছেন। এতে অন্যান্য গ্রহে জীবন, তাদের বায়ুমণ্ডল, জলের উপস্থিতি, এবং পরিবেশ উপযোগিতা খুঁজে দেখা হয়। এখানে তারা লক্ষ্য করছে, পৃথিবীর মত গ্রহে বায়ুমণ্ডল ও তাপমাত্রা উপযুক্ত হলে জীবনের সম্ভাবনা বেশি।
ড্রেক সমীকরণ (Drake Equation) অনুযায়ী, আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে বুদ্ধিমান প্রাণের সম্ভাব্য সংখ্যা কয়েক কোটি হতে পারে। তবে আমরা এখনও সরাসরি কোনো তাদের সঙ্গে কোনওরকমভাবে যোগাযোগ করতে পারিনি। এটিকে 'ফার্মি প্যারাডক্স' বলা হয়।
যদি বুদ্ধিমান এলিয়েন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ বা সংঘর্ষের চেষ্টা করে, তাদের প্রযুক্তি আমাদের চেয়ে অনেক উন্নত হতে পারে। তবে এটি কল্পনা ও বৈজ্ঞানিক অনুমানের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
ভবিষ্যতে এলিয়েনরা পৃথিবীতে রাজত্ব করতে পারবে কি? সাধারণত এটি বিজ্ঞানীদের কাছে একটি 'হাইপোথেটিকাল' প্রশ্ন। এখানে কিছু বিষয় নিয়ো আলোচনা করতে হয়। গ্যালাক্সি বা গ্রহগুলোর দূরত্ব এত বড় যে, আলো এবং রেডিও সিগন্যালও কয়েক হাজার বছর সময় নেয়। তাই তাদের আমাদের সঙ্গে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। যদি বুদ্ধিমান এলিয়েন প্রযুক্তিগতভাবে আমাদের চেয়ে এগিয়ে থাকে, তারা পৃথিবীতে আসতে পারে। তবে তারা শান্তিপ্রিয় হতে পারে। পৃথিবী এলিয়েনের জন্য উপযোগী নাও হতে পারে। অন্য গ্রহের প্রাণীর জন্য আমাদের বায়ুমণ্ডল, জল, এবং মাটি মানিয়ে নেওয়া কঠিন হতে পারে।
এলিয়েন নিয়ে আজও প্রচুর না জানা কথা আছে। আমাদের পৃথিবীতে তাদের সরাসরি উপস্থিতি বা রাজত্ব খুব সম্ভব নয়। তবে মাইক্রোবিয়াল জীবন বা দূর গ্রহে বুদ্ধিমান জীবন থাকার সম্ভাবনা বিজ্ঞানীরা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। ভবিষ্যতের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি, মহাকাশ অনুসন্ধান এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি আমাদের এই রহস্য উন্মোচনে সাহায্য করবে।