পৃথিবীর অন্য সব প্রাণীর দুধের থেকে একেবারেই আলাদা তিমির দুধ। গরু, মানুষ বা ছাগলের দুধ যেখানে তরল, সেখানে তিমির দুধ এতটাই ঘন যে দেখতে অনেকটা ক্রিম বা পুডিংয়ের মতো। এর কারণ, তিমির দুধে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত চর্বি থাকে। এই ঘনত্ব অনেকটা ক্রিম চিজের মতো।
সমুদ্রের নিচে বাচ্চাকে দুধ খাওয়াতে হয় বলেই প্রকৃতি তিমির দুধকে এমনভাবে তৈরি করেছে। সাধারণ দুধ হলে তা জলেতে মিশে যেত। কিন্তু তিমির ঘন ও তৈলাক্ত দুধ জলেতে গলে না। বরং সরাসরি বাচ্চার মুখে চলে যায়। ফলে এক ফোঁটা দুধও নষ্ট হয় না।
নীল তিমির বাচ্চার ক্ষেত্রেই এই বিস্ময় সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। জন্মের সময়ই একটি নীল তিমির শাবকের ওজন প্রায় ৩ টন হয়। তারপর শুধু মায়ের দুধ খেয়েই সে এক বছরের মধ্যে ২০ টন পর্যন্ত ওজন বাড়াতে পারে। প্রতিদিন সে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ লিটার দুধ পান করে এবং দিনে প্রায় ৯০ কেজি পর্যন্ত ওজন বাড়ায়।
মা তিমির স্তনবৃন্ত থাকে পেটের কাছে, শরীরের দুই পাশে। বাচ্চা মুখ দিয়ে চাপ দিলে মা পেশি সংকুচিত করে দুধ বের করে দেয়। সেই দুধ এতটাই ঘন যে তা জলেতে ছড়িয়ে না পড়ে সরাসরি শাবকের মুখে ঢুকে যায়।
জন্মের কিছুক্ষণের মধ্যেই তিমির বাচ্চা সাঁতার কাটতে পারে। তারপর মায়ের পাখনার নিচে লুকিয়ে থেকে দুধ খায়। এতে শিকারি প্রাণীদের আক্রমণ থেকেও সে অনেকটা নিরাপদ থাকে। প্রজাতি অনুযায়ী, একটি তিমিশাবক ৬ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত মায়ের দুধ খায়। তারপর ধীরে ধীরে মাছ ও অন্যান্য খাবার খেতে শেখে।